এবারও বিদ্রোহীতেই ভয় আ. লীগের

ইউপি নির্বাচন-২০১৬সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনের মতো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কা কাজ করছে ক্ষমতাসীন আওয়া লীগে। সদ্য অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনের চেয়ে ইউপি নির্বাচনে বেশি বিদ্রোহী থাকবেন বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী  ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সারাদেশে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাও হতে পারে বিপুল পরিমাণে। তাই এ নির্বাচনে বিদ্রোহী দমন করতে ক্ষমতাসীনদের গলদঘর্ম হতে হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, প্রত্যেক ইউনিয়নে কমপক্ষে হাফডজন সৎ-যোগ্য, মেধাবী ও জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন। কিন্তু দলের মনোনয়ন পাবেন মাত্র একজন। তাই মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়ে যাবেন। এ অংশটি একেবারেই নগণ্য হবে না। আর এ অংশটিকে কেবল কেন্দ্র থেকে হাক-ডাক দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়াও সম্ভব হবে না। কারণ, তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতারা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করেন। এ মহলটিকে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দিয়ে তাদের দূরে থাকতে বাধ্য করা সম্ভব হবে না। বরং বেশি হাক-ডাক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলের নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে। তাই তৃণমূল নেতাদের বুঝিয়ে দলের মনোনীত  প্রার্থীদের বিরুদ্ধে না দাঁড়াতে পরামর্শ দিতে হবে।

ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, প্রত্যেক ইউনিয়নে কমপক্ষে হাফডজন সৎ-যোগ্য, মেধাবী ও জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন। কিন্তু দলের মনোনয়ন পাবেন মাত্র একজন। তাই মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়ে যাবেন। এ অংশটি একেবারেই নগণ্য হবে না। আর এ অংশটিকে কেবল কেন্দ্র থেকে হাক-ডাক দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়াও সম্ভব হবে না। কারণ, তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতারা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করেন। এ মহলটিকে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দিয়ে তাদের দূরে থাকতে বাধ্য করা সম্ভব হবে না। বরং বেশি হাক-ডাক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলের নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে। তাই তৃণমূল নেতাদের বুঝিয়ে দলের মনোনীত  প্রার্থীদের বিরুদ্ধে না দাঁড়াতে পরামর্শ দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সম্পাদকমণ্ডলীর এক নেতা বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার পরে দলের ভেতরে একটু প্রতিক্রিয়া না হলে নেতাদের কাজ কী? কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতেই হবে তা না হলে আওয়ামী লীগ কেন? তিনি বলেন, এটাও এক ধরনের রাজনীতি। 

কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, বিদ্রোহী ইস্যুটি  ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর সঠিক কোনও পথ এখন পর্যন্ত বের করতে পারেনি দলটি। পৌরসভা নির্বাচনের মতো বহিষ্কারের ভয়-ভীতি কোনও কাজে আসবে বলে তারা মনে করছেন না।

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাবশালী এক মন্ত্রী বলেন, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারেন। সবাইকে বহিষ্কার করতে গেলে দল দুর্বল হয়ে পড়বে, বিভক্তি বাড়বে দলে। আর বিপুলসংখ্যক দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াও কঠিন কাজ। এ ক্ষেত্রে ভুল প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ থাকে। তখন যোগ্য ও দলের নিবেদিত অনেকে হয়তো বিদ্রোহী হবেন। আর এসব বিদ্রোহীকে দল থেকে বের করে দিলে তৃণমূলে চিড় ধরবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা আওয়ামী লীগে রয়েছে। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগ শৃঙ্খলিত। আশা করি, সবাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। 

প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে না পেরে ক্ষুব্ধ আ. লীগের মন্ত্রী-এমপিরা

এদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না হতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না করায় বিষয়টিকে নিজেদের জন্যে ‘অমর্যাদাকর’ হিসেবে দেখছেন তারা। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতা মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষযটি নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সূত্র জানায়, অন্তত দশ জন এমপি প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকতে না পেরে দফতরে এসে মৌখিকভাবে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। নীতি-নির্ধারণী নেতারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে না রেখে স্থানীয় মন্ত্রী-এমপিদের তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভ থেকে রক্ষা করেছে আওয়ামী লীগ।

নীতি-নির্ধারণী ওইসব নেতা বলেন, এমপি-মন্ত্রীরা মনে করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে আর কেউ বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন না। তাই এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের রাখা উচিত ছিল। কয়েকজন এমপি-মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হতে হলে পুরো সংসদীয় আসন তাদের চষে বেড়াতে হয়। এরফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কে কেমন—বিষয়টি একমাত্র এমপিরাই বিচার করতে পারেন। তাই, প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত রাখা দরকার ছিল। এতে বাছাইয়ে যোগ্য প্রার্থী উঠে আসা সম্ভব ছিল। তবে, নাম প্রকাশ করে কেউ এসব বক্তব্য দিতে রাজি হননি।   

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় এমপিদের না রাখায় কিছু কিছু এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে, এর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তিনি বলেন, এমপিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের যুক্ত রাখা হয়নি। বিষয়টি ‘অমর্যাদাকর’ মনে করা ঠিক হবে না।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ডে থাকতে না পেরে যেসব এমপি নিজেদের অসম্মান করা হয়েছে দাবি করছেন, তারা রাজনৈতিকভাবে দুর্বল। তাদের সীমাবদ্ধতা আছে। দলের নীতি-আদর্শ ও কার্যপ্রণালীতে তাদের দুর্বলতা আছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় মন্ত্রী-এমপিদের যুক্ত না রাখার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের যুক্ত রাখা হলে রাজনৈতিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একেবারেই তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি নির্বাচন। তিনি বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে দলের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, এখানে একজনকে দল মনোনয়ন দিলে আরেক জন স্থানীয় এমপির ওপর ক্ষিপ্ত হবেন। যদি তারা মনোনয়ন প্রক্রিয়া বা বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের ভবিষ্যত রাজনীতি হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া থেকে তাদের দূরে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এমপিদের অসম্মানিত করা হলো, এটা ভাবা হবে একেবারেই অযৌক্তিক।   

/এমএনএইচ/