বৈঠকে সংঘাত এড়াতে পার্বত্য অঞ্চলগুলোর সব ইউপিতে একদিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ করা হয়।
সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেনা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) প্রতিনিধি দলীয় ভিত্তিতে সদ্য অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন ও চলমান ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দ্বন্দ্ব-সংদঘাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে বৈঠকে বলেন, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলে পাড়ায় মহল্লার পারস্পরিক কোন্দল রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নিচ্ছে। ব্যক্তিগত সংঘাত এখন রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে বেশি পরিমাণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন নিয়ে কোনও ঘটনাকে ‘অতিরঞ্জিত করে’ বা একটি ঘটনা বারবার প্রচার করে পুরো নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন জিডিএফআই প্রতিনিধি।
বৈঠকে এনএসআই প্রতিনিধি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেসব ইউপিতে বিএনপির কোনও প্রার্থী নেই সেগুলোতে বেশি সমস্যা হতে পারে। আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এ বিষয়ে আগেভাগে সতর্ক থাকতে হবে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতমুখী অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনার জবেদ আলী বলেন, একদল বলছে, আমরা বিমাতাসুলভ আচরণ করছি, আরেক দল বলছে, আমরা পটেকে ঢুকে যাচ্ছি। আমরা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই, যেন এই দুই অভিযোগের কোনওটিই সত্য না হয়।
নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রসঙ্গ টেনে কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, আমরা সবাই ভালো কাজ করছি, এটা বলা যাবে না। আমাদের দুই-একজন এমন কাজ করছেন, যার জন্য পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই-একটি জায়গায় গণ্ডগোলের কারণে পুরো নির্বাচনটাই ব্যর্থ হয়ে যায়। কোথাও এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর গিয়ে দায় পড়ে যাবে। কোথাও কিছু ঘটলে আপনাদের অ্যাকশন নিতে হবে। ভোটের আগের রাতে হোক বা ভোটের সময় হোক, কেউ যেন কেন্দ্র দখল করতে না পারেন, তার জন্য শেষ গুলি থাকা পর্যন্ত প্রতিহত করতে হবে।
বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বচনের সময় দুটি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনের প্রস্তাব করা হলে র্যাবের প্রতিনিধি তাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তারা নির্বাচনের সময় উপজেলা সদরে অবস্থান করে দায়িত্ব পালনের কথা জানান।
ইসির পক্ষ থেকে সাধারণ কেন্দ্রে ৩ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ মোতায়েনের কথা বলা হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে তাদের ফোর্স সংকটের কথা বলে তা কমনোর প্রস্তাব করা হয়। পুলিশ সব ধরনের কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩ জন করে সদস্য মোতায়েন করতে পারবেন বলে বৈঠককে জানানো হয়। আনসার মহাপরিচালকও ইসির বৈঠকে তাদের অস্ত্রধারী ফোর্স সংকটের কথা জানান।
/এমএনএইচ/