সারা দেশের দাবদাহের জন্য বায়ুদূষণ দায়ী

বায়ুদূষণ কমাতে দ্বৈত নীতির পরিহার জরুরি। ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে যে তাপদাহ চলছে তার জন্য বায়ুদূষণ দায়ী।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং বারসিক-এর যৌথ আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় স্টামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার এই কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচারের সহ-সভাপতি এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। সঞ্চালনা করেন ক্যাপস-এর গবেষক মো. নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী।

অন্যদের মধ্যে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান এবং বারসিক-এর সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখেন।

ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার মূল প্রবন্ধে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি উপলব্ধি করে পিএম২.৫-এর আদর্শমান প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম থেকে কমিয়ে ৫ মাইক্রোগ্রাম করেছে। সেখানে বাংলাদেশের ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২’ (তফসিল-১)-এ পিএম২.৫-এর আদর্শমান প্রতি ঘনমিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম থেকে বাড়িয়ে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম করা হয়েছে। আবার বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২-এর তফসিল-৫ অনুযায়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ট্যাক ইমিশনের জন্য সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ এবং বস্তুকণার সর্বাধিক অনুমোদিত সীমা যথাক্রমে ২০০, ২০০ এবং ৫০ মিলিগ্রাম/ন্যানো ঘনমিটার। যেসব দেশ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলায় সহযোগিতা করছে, তাদের চেয়েও যা ৪-৫ গুণ বেশি।

তিনি সম্মেলনে এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তাব করেন। এরমধ্যে ভবিষ্যতে বায়ুদূষণের মারাত্মক প্রভাব হ্রাস করার জন্য, কমপক্ষে পূর্ববর্তী মান প্রতি ঘনমিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম বজায় রাখার পরামর্শ দেন। বায়ুর মানমাত্রা কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্ট্যাক ইমিশনের মানমাত্রা বিধিমালায় যে সংশোধন হবে তা যেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মানমাত্রার সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে করা হয় এবং আমাদের দেশে যেসব উন্নয়ন সাহায্য প্রদানকারী দেশ, সংস্থা বা পরামর্শক ফার্ম কাজ করেন তাদের নিজ দেশের মানমাত্রার সঙ্গে যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, তবে এগুলোর মান নির্ধারণের পূর্বে অবশ্যই পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ছোট বা বড় যেসব শিল্প হতে পরিবেশ দূষিত হবে তাদের সঠিক শ্রেণি বিন্যাস করতে হবে এবং নির্গত দূষণের মাত্রা স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ করে দিতে হবে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকী বলেন, বায়ুদূষণ কমানোর জন্য আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কিন্তু বিভিন্ন নীতিমালায় তার বিপরীতমুখী আইন পাস হয়ে যাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এই বিষয়ে জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। শরীফ জামিল বলেন, পৃথিবীর সব দেশের নীতি, আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হয় জনস্বার্থে। কিন্তু বাংলাদেশের নীতি প্রণয়নে দুর্নীতির মাধ্যমে জনস্বার্থ উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার সাম্প্রতিক একটি ঘৃণ্য উদাহরণ হচ্ছে সমন্বিত নির্মল বায়ু আইন প্রণয়ন না করে একটি অগ্রহণযোগ্য বায়ুদূষণ বিধিমালা প্রণয়ন।

মনজিল মোরসেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ আসে, সেটি জনগণের হবে কিনা তা নির্ভর করে আইন প্রণয়নে কারা জড়িত তার ওপর। আমাদের সংসদে নেতৃত্ব দেন ব্যবসায়ীরা এবং পলিসি নির্ধারিত হয় তাদের স্বার্থে। পরিবেশ দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী ব্যবসায়ীরা।