শ্রমিকনেতা সিদ্দিকুলের মৃত্যুতে গণসংহতির শোক

ন্যাপের (পুনর্গঠন) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, প্রবীণ শ্রমিকনেতা ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সিদ্দিকুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন।

রবিবার (০৬ নভেম্বর) বিকালে এ শোক প্রকাশ করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিদ্দিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত শুক্রবার হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। মৃত্যুকালে তিন কন্যা, এক ছেলে এবং স্ত্রী রেখে গেছেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক যৌথ বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও মৃতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকনেতা হিসেবে সিদ্দিকুল ইসলাম ছিলেন তার কালে উজ্জ্বল। বাংলাদেশে পরিবহন খাতের নেতৃত্বে তার নামকে আন্দোলনকারীরা চিরদিন মনে রাখবে। তিনি ছিলেন পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপিত। ছিলেন চট্টগ্রাম ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

নেতৃবৃন্দ তাকে স্মরণ করে আরও বলেন, তিনি পাকিস্তান আমল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং এরশাদ-স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বড় বড় আন্দোলন সংগঠিত করেন এবং সেগুলোতে ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে চট্টগ্রামে যে নাগরিকদের কর প্রদান নিয়ে আন্দোলন চলছে, সেটাতে কার্যকর ভূমিকা রেখে যাচ্ছিলেন তিনি। এমনকি চট্টগ্রামে ইপিজেড শুরু হলে সেখানে শ্রম-পরিবেশ এবং মজুরির আন্দোলনেও নেতৃত্ব দেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশ গ্রেফতার করলে বিশাল শ্রমিকদের সমাবেশ তাকে পুলিশের কাছ থেকে জনতার কাছে ছিনিয়ে নেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের শ্রমিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবককে হারালাম বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষতি অপরিমেয়।