আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক বিবৃতিতে তিনি শোক জানান। এতে সৈয়দ আবুল হোসেনের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শেখ হাসিনা।
পৃথক এক বিবৃতিতে সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোক বার্তায় তিনি আবুল হোসেনের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহীদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। এক শোকবার্তায় আমির হোসেন আমু আবুল হোসেনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান৷
শোকবার্তায় আবুল হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সালমান এফ রহমান জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত৷ মাদারীপুর-৩ আসনের চারবারের সাবেক সফল সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ বাস্তবায়নে তার সাহসী ভূমিকার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তা ছাড়া দেশব্যাপী শিক্ষাবিস্তারে এবং মাদারীপুরের জনসাধারণের সার্বিক উন্নয়নের তার বিভিন্ন উদ্যোগ তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তার মৃত্যু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য এক অপরিসীম ক্ষতি।
সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এলাকার শিক্ষা বিস্তারে তিনি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার মতো একজন শিক্ষাদরদী মানুষের মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারে সৈয়দ আবুল হোসেনের বিশেষ অবদান ছিল। ’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম শোক জানিয়েছেন সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এক শোকবার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা একজন মেধাবী, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারালাম। মাদারীপুর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে নজীরবিহীন অবদান রেখেছেন তিনি। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’
সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এক শোকবার্তায় তিনি আবুল হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ ছাড়া সৈয়দ আবুল হোসেন মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সৈয়দ আবুল হোসেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবুল হোসেন ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীর (বর্তমান নাম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) দায়িত্ব পালন করেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৫১ সালে মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। তার স্ত্রীর নাম খাজা নার্গিস। তার দুই মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন ও সৈয়দা ইফফাত হোসেন।