প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণে ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানানো হয়েছে স্কলাস্টিকা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ইয়াসমিন মোর্শেদকে। শুক্রবার (১ আগস্ট) জুমার নামাজের পরে গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা এবং স্কলাস্টিকা স্কুলের উত্তরা শাখার প্রাঙ্গণে বিকাল ৪টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার। এরপর প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শেষ বিদায় জানানো হয় এই বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ীকে।
জানাজায় অংশ নেন তার মেয়ে-জামাতা কাজী ইনাম আহমেদ ও পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও ছিলেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সবাই উপস্থিত হন স্কলাসটিকা স্কুলে। জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আপা ছিলেন আমাদের সবার অনুপ্রেরণা। তিনি যেভাবে শিখিয়েছেন আমরা যেন সেভাবেই তার লিগ্যাসিটা ধরে রাখতে পারি। পৃথিবীর বহু দেশে ওনার ছাত্র-ছাত্রী ছড়িয়ে আছে। আমরা সবাই ওনার থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। যেগুলো জীবনে চলার পথে অনেক মূল্যবান। আপার অবদান আমরা বলে বোঝাতে পারবো না। উনি ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর।
ইয়াসমিন মোর্শেদ ছিলেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী। ১৯৪৫ সালের ১৯ মে কলকাতায় খাজা জাকিউদ্দিন ও বেগম বিনু দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি তার স্বামী সৈয়দ তানভীর মোর্শেদের লাহোর ও ইসলামাবাদে পোস্টিংয়ের সময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি স্কলাস্টিকা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
২০০৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন:
স্কলাস্টিকা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ইয়াসমিন মোর্শেদ আর নেই