আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ভোটারদের কাছে নৌকা হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীক। এ কারণে নৌকা প্রতীক পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে জোর লবিং। পৌরবাসীদের ধারণা,আসন্ন পৌর নির্বাচনে যিনি নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনিই নির্বাচনে সুবিধাজনক স্থানে থাকবেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জোর লবিং ও যোগাযোগ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বাড়ি,দোকান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রার্থীরা গিয়ে জনসংযোগ করছেন। সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার ও ডিজিটাল সাইনে নির্বাচনি এলাকা ছেয়ে গেছে। সমর্থকদের নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে শোডাউনও করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
গোপালগঞ্জ পৌর নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন অন্তত দশ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে পৌরসভার বিদায়ী মেয়র ও জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মো. রেজাউল হক সিকদার রাজু আসন্ন নির্বাচনেও প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এম.বদরুল আলম বদর, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান লিটন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী লিয়াকত আলী লেকু, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জি.এম শিহাব উদ্দিন আজম, সাধারণ সম্পাদক এম.বি সাঈফ বি মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক বি.এম আলম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক পদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী নেতা আশরারুল হক লিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক কালাচাঁদ সাহা ও যুবলীগ কর্মী শেখ মুরাদ হোসেন।
দলীয় প্রতীক না পেলে এদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচনি লড়াইয়ে থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
বিগত বেশ কয়েক মেয়াদে এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরাই মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের এ ঘাঁটিতে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান খুবই দুর্বল। প্রকাশ্যে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। মেয়র পদে বিএনপি জামায়াতের কোনও সম্ভাব্য প্রার্থীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের তেমন কোনও আগ্রহ নেই। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কোনও দ্বন্দ্ব-সংঘাত বা গ্রুপিং নেই। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তিনিই সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক কালাচাঁদ সাহা বলেন,গত ১১ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। আর পৌর নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ কারণে গোপালগঞ্জে নির্বাচনের প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে যারপরনাই চেষ্টা করছেন। গোপালগঞ্জে বিএনপি জামায়াতের কোনও মেয়র প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমিও এ নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন চেয়েছি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। মনোনয়ন না দিলে, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করব।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার ভোটার মিলু মিয়া, আবুল বাশার, বাদল শেখ বলেন, নৌকা যিনি পাবেন তিনিই সুসংহত অবস্থানে থাকবেন। আমরা নৌকায় ভোট দেব। বিএনপি-জামায়াত গোপালগঞ্জের জন্য কিছুই করেনি। তারা ক্ষমতায় গিয়ে এ জেলার উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। পৌর নির্বাচনে দল থেকে সৎ, যোগ্য ও জনদরদী ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে হবে। সেই প্রার্থীই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ কর্মী তারা মিয়া, জুবায়ের, মুরাদ হোসেন বলেন, এখানে প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ করেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। দল থেকে ভাল প্রার্থীকে বাছাই করে মনোনয়ন দিলে তিনি অত্যন্ত মজবুত অবস্থানে থাকবেন।
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস.এম জিলানী বলেন, গোপালগঞ্জে আমরা এখন দল গোছাতে ব্যস্ত। প্রকাশ্যে আমাদের কর্মকাণ্ড তেমন নেই। কিন্তু গোপনে গোপনে আমরা সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন,পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আসন্ন গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আমরা মেয়র প্রার্থী দিতে তৎপরতা শুরু করেছি। এ নিয়ে দলের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাদের দল থেকে গোপালগঞ্জ পৌরসভায় একজন মেয়র প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হতে পাবে।
/এসএম/টিএন/