সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ভগ্নিপতি ও জেলা আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বি। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশী নাটকীয়তা হয়েছে। কারণ গত ১৭ অক্টোবর বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমানের উদ্যোগে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন জেলার পাঁচ এমপি। ওই সমাবেশে এমপিদের বক্তব্যে ছিল সাদেকের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত। বিশেষ করে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের কণ্ঠে সেদিন সাদেকের বন্দনা অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। যদিও সাদেকুর রহমান বিগত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন পেয়েছিলেন।
সাদেকের প্রতি এমপিদের সমর্থনের প্রতিফলন ঘটে কেন্দ্রে প্রেরিত সুপারিশে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সাদেকুর রহমানের পক্ষে নাম দেওয়া কাগজে স্বাক্ষর করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান কালাম,পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গাজী আমজাদ হোসেনসহ তাদের অনুগামী নেতারা।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বির পক্ষে শুরু থেকে কাজ করেন সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার। এছাড়া নেপথ্যে মাঠে নামেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাবু।
রাব্বির প্রার্থিতা নিয়ে এমপি বাবু ও সাবেক এমপি কায়সারের সঙ্গে স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা ও এমপি শামীম ওসমানের মধ্যে ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ শুরু হয়। কেন্দ্রে পাঠানো রাব্বির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক সেলিনা আক্তার ও নাসরিন সুলতানা ঝরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ মোল্লা বাদশা, সহ-সভাপতি আজিমুউদ্দীন, উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নান্নু, যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী হায়দার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নেকবর হোসেন নাহিদসহ তাদের অনুগামী নেতারা।
অন্যদিকে বিগত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মজিবুর রহমান নিজে তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত রাব্বিকেই দলের সমর্থন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বিরোধীরাও তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করব।
জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি জানান, আমি আমার পৌরসভার জনগণের চাপে বাধ্য হয়ে এবার নির্বাচন করছি। আমি নির্বাচন করতে চাইনি, কিন্তু পৌরবাসী আকে জোর করে নির্বাচনে নামিয়েছে।
সোনারগাঁও পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী হয়েছেন যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন। এ নির্বাচনকে ঘিরে সোনারগাঁও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এর আগে ত্রিধাবিভক্ত হলেও পৌরসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনতে এবার ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবে বিএনপি। ইতোমধ্যে ঢাকায় বিএনপির তিন গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বৈঠক করে মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের পক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নির্দেশে কোন্দল ভুলে মঙ্গলবার ঢাকায় অধ্যাপক রেজাউল করিমের বাসভবনে সোনারগাঁও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বিগত উপজেলা নির্বাচনের ন্যায় সোনারগাঁ পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মোশারফ হোসেন-এর পক্ষে সব নেতাকর্মীকে মাঠে নামার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভা এলাকায় এর আগে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বর্তমান মেয়র শফিকুল ইসলামকে সমর্থন দিয়ে চিঠি দিলেও দলের মনোনয়ন দেওয়া হয় নাসিরউদ্দিনকে। যিনি রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি জেলা বিএনপির সেক্রেটারি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত।
নাসিরের দলীয় মনোনয়নপত্র পাওয়া সম্পর্কে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার জানান, নাসিরকে দল উপযুক্ত মনে করেছে তাই দিয়েছে। আমার এ নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই। আমার দায়িত্ব দরখাস্ত জমা দেওয়া, আমি তা করেছি। আমার কাছে নাসিরের দরখাস্ত প্রথমে আসেনি। তাই আমিও দিতে পারি নাই, পরে আমার কাছে সে জমা দিয়েছে আমিও তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন কেন্দ্র তাকে দিয়েছে এখানে আমার কোনও হাত নেই।
এ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
/এসএস/