পৌর নির্বাচনে প্রচারণা শুরু, প্রতীক বরাদ্দ ১৪ ডিসেম্বর

পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা বুধবার (৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। এদিন থেকে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলররা ও তাদের প্রতিনিধিরা নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। এদিকে, নির্বাচনি প্রচারণার শুরুর দিন থেকে দলীয় প্রার্থীরা প্রতীকসহ প্রচারণার সুযোগ পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণার জন্য প্রতীক বরাদ্দের দিন (১৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা দুই ধরনের প্রার্থীদের জন্য এই ভিন্নতার বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক মনে করছেন।

কখন থেকে প্রচারণায় অংশ নেওয়া যাবে এবং প্রতীক বরাদ্দের আগে চাইলে কেউ প্রতীকসহ প্রচারণায় নামতে পারবেন কি না কমিশন থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বুধবার এ বিষয়ে স্পষ্ট করা হবে বলে কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন। অবশ্যই দলীয় প্রার্থীরা চাইলে প্রচারণার শুরুর দিন থেকে প্রতীক নিয়ে প্রচার করতে পারবেন বলে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন গত ২৪ নভেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচনের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী দল-মনোনীত। এতে করে দলীয় প্রার্থীরা দলের নির্ধারিত প্রতীক নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ করবেন। পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা ২০১৫ অনুসারে ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগ থেকে প্রচার করার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিধিমালায় বলা হয়েছে ‘কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কিংবা উহার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনও প্রকার নির্বাচনি প্রচার শুরু করতে পারিবেন না।’ এ হিসেবে ৯ ডিসেম্বর বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। এই প্রচারণা কার্যক্রম চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বুধবার প্রচারণা শুরু হলেও প্রার্থীদের মাধে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৪ ডিসেম্বর সোমবার।

মেয়র পদটি দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা কোন প্রতীক বরাদ্দ পাবেন তার জন্য প্রতীক বরাদ্দের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। কারণ দলের নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দ পাবেন নির্বাচনি বিধিমালায় সেটা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচনের প্রচারণার সময় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা চাইলে প্রতীকসহ প্রচারে নামতে পারছেন।

এদিকে, বরাদ্দের আগ পর্যন্ত  স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোন প্রতীক পাচ্ছেন, তা জানার কোনও সুযোগ নেই। ফলে চাইলেও তারা প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নামতে পারছেন না।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার দলীয় ভিত্তিতে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক আগেভাগেই নির্ধারিত থাকছে। কারণ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকগুলোই স্ব-স্ব দলের মেয়র প্রার্থীরা বরাদ্দ পাবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের শুরুর প্রথম দিন থেকে প্রতীকসহ প্রচারণায় অংশ নিতে কোনও বাধা থাকার কথা নয়।

নির্বাচনি প্রচারণা কবে থেকে শুরু হবে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলীয় মেয়র প্রার্থীদের সমান সুযোগ পাবেন কিনা—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এমন প্রশ্ন করা হলে সিইসি কাজী রবিরউদ্দিন আহমেদ তা এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বুধবার থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। তবে প্রতীকসহ প্রচারণার সুযোগ রয়েছে কিনা—বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট নয়। বুধবারই কমিশন থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

দলীয় প্রার্থীরা প্রচারণার শুরুর দিন থেকে প্রতীকসহ প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুযোগের বিষয়টি কমিশনার শাহনেওয়াজ সোমবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়টিকে কোনও ধরনের বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন না এই কমিশনার। ওইদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সামান্য ব্যাপার। ভোটার প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে দেখে নির্বাচনে ভোট দেই। পৌরসভা খুব ছোট এলাকা। খুব বেশি ক্ষতি হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ওই সময় প্রতীক না পেলেও নিজ পরিচিতিতে প্রচারণা চালাবেন।

এ শ্রেণির প্রার্থীরা প্রতীকসহ অন্যরা প্রতীক ছাড়া প্রচারণায় নামার সুযোগকে বৈষম্যমূলক মনে করছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেন। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটা স্পষ্টই বৈশম্যমূলক। এর ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারণায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ভোটাররা কোনও ব্যক্তিকে ভোট দেবেন না। তার প্রতীককেই তারা ভোট দেবেন। কাজেই ব্যক্তিকে পরিচিত করে কোনও লাভ নেই। তার প্রতীকই পরিচিতি করতে হবে।

পৌরসভা নির্বাচনের বিধিমালার প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই কমিশনার বলেন, এই নির্বাচনের আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা হ-য-র-ব-ল দেখতে পেয়েছি। বিধিমালায় প্রচারণার যে বিধান রাখা হয়েছে তাতেও আমরা সেটা দেখছি। তিনি বলেন, বিধিমালায় বলা হয়েছে নির্বাচনের ৩ সপ্তাহ আগে প্রচারণা চালানো যাবে না। কিন্তু করে থেকে যাবে সেটা তো স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এ বিষয়ে কমিশনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

/এমএনএইচ/