কিশোরগঞ্জ সদর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচন করবেন বাবার টাকায়। আর বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন করবেন ছেলের টাকায়। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী নির্বাচন করবেন দলীয় অনুদানের টাকায়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের গত পাঁচ বছরে সম্পদ ও বাৎসরিক আয় দুটিই ব্যাপকহারে কমেছে। এসএসসি পাস মাজহারুল পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন করছেন। ২০১১ সালে নির্বাচনে তার বাৎসরিক আয় ছিল ২ লাখ টাকা। এবার তা শূন্যের কোঠায়। আগে তার নগদ ৫ লাখ ২১ হাজার টাকা ছিল। এবার তার রয়েছে ৯১ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংকে জমা কোনও টাকা নেই। স্বর্ণের পরিমাণ ৩০ ভরি। নিজ নামে নেই কোনও কৃষি জমি। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি রঙিন টিভি, একটি ফ্রিজ ও একটি ভিসিডি প্লেয়ার। তার আগেও কোনও মোবাইল ফোন ছিল না, এখনও নেই। আসবাব পত্রের মধ্যে আছে খাট, সোফা, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি। তিনি নির্বাচনে ব্যয় করবেন ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ছেলের কাছ থেকে নেবেন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও স্বজনেরা দেবেন ৫০,০০০ হাজার টাকা।
আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। কিশোরগঞ্জ শহরে গাংচিল নামে একটি হোটেলের অংশীদার তিনি। তার ১৭ লাখ টাকার সম্পত্তি রয়েছে। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২০ হাজার ৪৫৫টাকা। শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮০ টাকা। তবুও তাকে নির্বাচন করতে হবে বাবার টাকায়। এছাড়া তার রয়েছে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি মোটরসাইকেল ও ১০ ভরি স্বর্ণ। রয়েছে একটি রঙিন টিভি, একটি ফ্রিজ, একটি ওভেন। আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে তিনটি খাট, একটি সোফা সেট, ডাইনিং সেট ১টি, ওয়ারড্রব একটি, দুইটি আলমারি। এক শতক জমি রয়েছে। তার একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। তিনি নির্বাচনে ব্যয় ধরেছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২০০টাকা। এর বাবার কাছ থেকে নেবেন ২ লাখ টাকা।
আরেক মেয়র প্রার্থী সিপিবি থেকে মনোনীত মো. আবুল হাসেম পেশায় একজন শিক্ষক। তার হাতে নগদ আছে ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা এক হাজার টাকা। তিনি নির্বাচন বাবদ ব্যয় করবেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০টাকা। যা পাবেন দলীয় অনুদান থেকে।
/এসটি/