রাত পোহালেই দেশের ২৩৩ পৌরসভায় শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধ। আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে এ ভোটগ্রহণ। আর এ ভোট গ্রহণকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্র, মালামালসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। ইতোমধ্যে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ সব মালামাল পৌঁছে গেছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:
নেত্রকোনা: নেত্রকোনা জেলার ৫টি পৌরসভার নিবার্চনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিজ নিজ উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচনি ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. আব্দুর রহিম জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি যে কোনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
খুলনা: খুলনা অঞ্চলে ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে সবধরনের সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। বিভাগের ২৯টি পৌরসভায় বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ, আনসার সদস্যরা।
খুলনা রেঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের পৌরসভা এলাকায় ৬৭১১ জন পুলিশ মোতায়েন এবং আরও ১৩০ জন পুলিশকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে। আনসার সদস্য ৪২৯০ জন, বিজিবি ৩৭৬ জন ও ১৮ প্লাটুন বিভিন্ন কেন্দ্র এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত এরা দায়িত্ব পালন করবে।
খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খুলনার ২৯টি পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৮ জন।
ঠাকুরগাঁও: শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ করতে জেলা নির্বাচন অফিস চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলার ৩টি পৌরসভার ৩৯টি ভোট কেন্দ্রে ৩৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৩৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ৪ প্লাটুন বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ৮২ হাজার ৪৪৩টি ব্যালট পেপার, ২৭৭টি ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সামগ্রী স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নীলফামারী: নীলফামারীর দুটি পৌরসভায় অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার পর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট কেন্দ্র গুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। এ ছাড়া সকাল থেকে জলঢাকা ও সৈয়দপুর দুটি পৌরসভায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানে জন্য আনসার বাহিনীর সদস্য ও পুলিশের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি ও বিপুল সংখ্যক র্যাব মোতায়েন মাধ্যমে টহল জোরদার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ পৌরসভায় ২৯টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও পুলিশ। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি ( তদন্ত) শওকতুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, প্রতি কেন্দ্রেইে পুলিশ, আনসারসহ ১৯ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করবে। পৌর এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি কাজ করবে।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের তিনটি পৌরসভা নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে উলিপুর, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রিজাইডিং অফিসারের হাতে তুলে দেন। প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনি সরঞ্জামাদি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আখতার হোসেন আজাদ এসব তথ্য জানান।
কুড়িগ্রাম জেলায় ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৩টি, নাগেশ্বরীতে ২২টি ও উলিপুরে ১৮টি। এ তিন পৌরসভায় মোট ৬৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ এই ৩ পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ১৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ৪৯ জন ও কাউন্সিলর পদে ১৩৮ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তিন পৌরসভায় মোট ভোটার হচ্ছে ৮৬ হাজার ৫শ’ ২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪২ হাজার ৪শ’ ৭৪ জন ও নারী ভোটার ৪৪ হাজার ৫৫ জন।
গাইবান্ধার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শামছুল আজম বলেন, উৎকণ্ঠার কোন কারণ নেই। এবার শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিন পৌরসভার প্রতিটিতে ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি নিয়োজিত থাকবে।
বরিশাল: পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে জেলার ৬টি পৌরসভায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে স্ব স্ব কেন্দ্রে নির্বাচনি ব্যালট বাক্সসহ মালামাল পাঠানো শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হালিম খান জানান, ৬টি পৌরসভার ৫৮টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, সিল, প্যাড, ব্যালটসহ সকল সামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে স্ব স্ব পৌরসভার রির্টানিং অফিসারের কাছে। জেলার ৬ পৌরসভায় ৯৮ হাজার ৬৮৯ জন ভোটার সকাল ৮টা থেকে অধিকাকার প্রয়োগ করবেন।
এদিকে সোমবার মধ্যরাত হতে গৌরনদী, বানারীপাডা, বাকেরগঞ্জ ও উজিরপুরে টহল শুরু করেছে বিজিবি এবং মুলাদী ও মেহেন্দীগঞ্জে মোতায়েন করা হয়েছে কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের।
ফেনী: ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। আগামীকাল বুধবার এ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে ও ৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।
রিটানিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোট গ্রহণের যাবতীয় উপাদান বুঝে নেন। বিকেলের মধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র গুলো পৌঁছে যায় নির্ধারিত ১০টি কেন্দ্রে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রের আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ফরিদা খানম জানান, ভোট গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে।
/আরএ/এফএ/