ইসলামের অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় রোজা অনন্য হওয়ার কারণ হলো, এর প্রতিদান আল্লাহ স্বয়ং নিজ হাতে দেবেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় দেবো। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস:১৮৯৪)
আল্লাহর হুকুম পালনার্থে ও বিরাট এই পুরস্কারের আশায় মুসলিম উম্মাহ অনেক কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রমজানের পুরোটা মাস টানা রোজা রাখে। বান্দার এই তীব্র কষ্ট সহ্যের পুরস্কার স্বরূপ এখানে আল্লাহ শুধু ৩০ দিনে ৩০টি রোজার সওয়াবই দান করেন না; বরং প্রতিটির সওয়াব ১০ গুণ করে বৃদ্ধি করে দেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করলো, তার জন্য থাকবে ১০ গুণ প্রতিদান।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬০) এভাবে ৩০টি রোজা রাখলে বান্দা ৩০০টি রোজা রাখার সওয়াব পাবেন।
একইভাবে বান্দা যেন পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জন করতে পারেন, এ জন্য রমজানের পরের মাস শাওয়ালে ছয়টি রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে ইসলাম। এ প্রসঙ্গেও একাধিক হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানে রোজা রাখা ১০ মাস রোজা রাখার সমান এবং শাওয়ালে ছয় দিন রোজা রাখা দুই মাস রোজা রাখার সমান। সুতরাং রমজান ও ছয় রোজা মিলে এক বছরের রোজার সমান।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস:২২৪১২)
শাওয়ালের এই রোজার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত আছে, সেটি হলো, এই রোজা রমজানের রোজা কবুল হওয়ার একটি আলামত। রমজানে রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসে কিছু রোজা রাখা একথার আলামত যে, আল্লাহ তায়ালার দরবারে রমজানের রোজা কবুল হয়েছে। কেননা, আল্লাহ তায়ালা যখন বান্দার কোনও আমল কবুল করেন, তখন অন্য একটি নেক আমলের তাওফিক দান করেন।
বিখ্যাত সালাফ সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন, ‘নেক আমলের প্রতিদান হচ্ছে, এরপর আরও নেক আমলের তাওফিক পাওয়া। আর গোনাহের শাস্তি হলো, এরপর আরও গোনাহে লিপ্ত হওয়া।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ১০/১১)
তার এই কথার সমর্থন পবিত্র কোরআনে বিদ্যমান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা হেদায়েতের পথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদের হেদায়েতে উৎকর্ষ দিয়েছেন এবং তাদের দান করেছেন তাদের (প্রয়োজনীয়) তাকওয়া।’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত:১৭)
আমাদের এ কথাও মনে রাখতে হবে, শাওয়ালের রোজা রাখা রমজানের রোজার মতো ফরজ নয়। এটা নফল ইবাদত। তবে এর রয়েছে অগণিত সওয়াব। হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) শাওয়াল মাসের প্রথমদিকে, মধ্যভাগে বা শেষাংশে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখার কথা বলেননি। আবার রোজা ছয়টি লাগাতার রাখার নির্দেশনাও হাদিসে পাওয়া যায় না। তাই ফকিহ আলেমরা বলেন, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যেকোনও ছয় দিনে রোজা রাখলেই হাদিসে বর্ণিত উল্লিখিত সওয়াব পাওয়া যাবে।
কিন্তু যাদের কাজা রোজা আছে, অসুস্থতা কিংবা নারীদের হায়েজ-নেফাসের কারণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে, তাদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো, শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। তারপর তারা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষক