ইহরামের কাপড় দিয়ে কাফন বানানো কি জরুরি

অনেক হাজি দেশে ফেরার পর ইহরামের কাপড় সংরক্ষণ করে রাখেন এবং মৃত্যুর পর সেটিকে কাফন হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করেন। আবার অনেকে মনে করেন, ইহরামের কাপড় অবশ্যই জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর কাফনের জন্য রেখে দিতে হবে। এ বিষয়ে শরিয়তের সঠিক বিধান জানা জরুরি।

ফিকহবিদদের বক্তব্য হলো, জীবদ্দশায় নিজের কাফন আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা জায়েজ। একইভাবে পবিত্র ও বরকতময় বস্তুর মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে কোনও কাপড় সংরক্ষণ করাও বৈধ। এ কারণে কেউ যদি হজে ব্যবহৃত নিজের ইহরামের চাদর জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে ভবিষ্যতে কাফন হিসেবে ব্যবহারের নিয়তে সংরক্ষণ করেন, তাহলে এতে কোনও অসুবিধা নেই। আবশ্যক মনে না করলে এটি বিদআত নয়। কারণ, শরিয়তে এতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, এ কাজ ‘আবশ্যক বা সুন্নত নয়’। অর্থাৎ জমজমের পানি দিয়ে ধোয়াই কাফনের জন্য অপরিহার্য– এমন বিশ্বাস রাখা সঠিক নয়। এটি কেবল একটি বৈধ ও ব্যক্তিগত আমল; কেউ করলে বরকতের আশা করতে পারেন সর্বোচ্চ, আবার না করলেও কোনও গুনাহ হবে না।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ইহরামের দুই কাপড়েই কাফন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ থেকে ইহরামের কাপড়ে কাফন দেওয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়। এছাড়া ইমাম বুখারি (রহ.) এর আলোচনায় এবং হাফেজ ইবনু হাজার আল-আসকালানি (রহ.) এর ব্যাখ্যায়ও জীবদ্দশায় কাফন প্রস্তুত রাখা এবং নেককারদের ব্যবহৃত বা বরকতময় বস্তুর মাধ্যমে বরকত গ্রহণের বৈধতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

নারীর ক্ষেত্রেও স্বামীর হজ বা ওমরায় ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় থেকে কাফনের কাপড় তৈরি করা জায়েজ। তবে কাপড় যদি ময়লা হয়ে যায়, তাহলে তা ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাফন ব্যবহার করা শরিয়তে পছন্দনীয়।

সারকথা, ইহরামের কাপড় জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে কাফনের জন্য সংরক্ষণ করা জায়েজ, কিন্তু তা করা বাধ্যতামূলক বা জরুরি নয়। একইভাবে জমজমের পানি দিয়ে না ধুলেও সেই ইহরামের কাপড় কাফন হিসেবে ব্যবহার করতে কোনও শরয়ি বাধা নেই।

জামিয়াতুল উলূমু আল ইসলামিয়া আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরি টাউন করাচি ও অন্যান্য ফতোয়া বিভাগের ফতোয়া অবলম্বনে