ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ ঈমান আনয়ন ও সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং জান্নাত লাভের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা স্থায়ী হয়ে থাকবে, সেখান থেকে বের হয়ে আর অন্যত্র যেতে চাইবে না।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ১০৭-১০৮)
ঈমান আনার পদ্ধতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘সুতরাং তারা যদি তেমন ঈমান আনে, যেমন তোমরা (আল্লাহর রাসুল ও তাঁর সাহাবিরা) ঈমান এনেছো, তাহলে তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে, আর যদি অস্বীকার করে, তবে তারা ভেদাভেদে লিপ্ত, সে অবস্থায় তোমার জন্য তাদের (অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য) আল্লাহ্ই যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৩৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, যারা রাসুল (সা.) ও তার সাহাবাদের মতো ঈমান আনবে, তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। অন্য পদ্ধতিতে ঈমান আনার বিষয়টিকে তিনি হেদায়েত থেকে বিচ্যুতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, মহান আল্লাহ সাহাবাদের ঈমানকে পরবর্তী মুমিনদের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
হাদিসেও এ বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ছাড়া সব দলই জাহান্নামে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! সেই দল কারা? তিনি বললেন, “যারা সেই আদর্শের ওপর থাকবে, যার ওপর আমি ও আমার সাহাবারা রয়েছি।” (জামে তিরমিজি)
এই হাদিসেও সাহাবাদের আদর্শকে অনুসরণীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ঈমানের ক্ষেত্রে সাহাবাদের অনুসরণকে অপছন্দ করার মনোভাবের সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর যুগের কাফেরদের আচরণের মিল রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “তোমরা ঈমান আনো যেমন লোকেরা (সাহাবায়ে কেরাম) ঈমান এনেছে,” তারা বলে, “আমরা কি ঈমান আনবো যেমন নির্বোধরা ঈমান এনেছে?” জেনে রাখ, নিশ্চয় তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৩)
ঈমান গ্রহণকারী সাহাবারা দুনিয়াবি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই কাফেরদের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও আখিরাতের বাস্তবতায় তাঁরা অগ্রসর ও জ্ঞানী ছিলেন। তাঁর মতে, ওই কাফেররা বিষয়টি বুঝতে পারেনি বলেই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাদের নির্বোধ আখ্যায়িত করেছেন এবং তারা যে নিজেদের এই অবস্থাও উপলব্ধি করতে পারেনি, তা উল্লেখ করেছেন।
ঈমানের ক্ষেত্রে সাহাবাদের আদর্শ হিসেবে বিবেচনা না করা হলে এবং তাঁদের সততা ও আমানতদারির বিষয়ে সন্দেহ করা হলে দ্বীন তথা কোরআন ও হাদিসের প্রতিও অনাস্থা তৈরি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমিই জিকর (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক।’
এখানে কোরআন সংরক্ষণের যে কথা বলা হয়েছে, তা যুগ যুগ ধরে প্রজন্ম পরম্পরায় সম্পন্ন হয়েছে। এ ধারার প্রথম প্রজন্ম ছিলেন হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহুম আজমাইন। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ ও হেদায়েত দান করেন। আমিন।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষক