বিএনপি ইউপি নির্বাচনে সক্রিয় হলে সহিংসতা কম হতো: হানিফ

মাহবুবউল আলম হানিফবিএনপি সক্রিয় হয়ে রাজনৈতিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মোকাবিলা করলে সহিংসতা আরও কম হতো বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর ভর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। রবিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলির এক সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কোনও দলের নাম উল্লেখ না করে সহিংসতা বিষয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, একটি দল ব্যক্তিগত ও সামাজিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতাকে নির্বাচনি সহিংসতা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এভাবে দলটি সরকার ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের বিগত তিন বছরের নৈরাজ্যমূলক সহিংস কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ইউপি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করেছে দাবি করে তিনি বলেন,  দেশের ৭৬ দশমিক ৮৭ ভাগ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ৩০ হাজারের অধিক কেন্দ্রের মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশন ৩৪৬টি ভোট কেন্দ্র বন্ধ করেছে, যা দশমিক শুন্য ৫ শতাংশের নিচে। এ সময় তিনি নির্বাচনি কাজে সহযোগিতা করায় নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন,  এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,  এটা সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ও সরকারকে উৎখাত করতে যারা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চালাচ্ছেন, এটা তাদের কর্মকাণ্ডের একটা অংশ বলে আমরা মনে করি। আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের তদন্ত শেষে  বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

গণতন্ত্র সঙ্কুচিত হওয়ায় দেশে গুপ্ত হত্যা বাড়ছে’ ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে  মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এই কথার মাধ্যমে প্রকারান্তরে কি ফখরুল সাহেব হত্যার দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন? তাহলে কি তারা তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারছেন না বলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন দেশে গণতন্ত্র নেই? তিনি বলেন, যে দেশে বিএনপি-জামায়াতের মতো দল সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের মদদ দেয় সেই দেশে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে একটু সময় লাগতেই পারে। আমরা আশা করছি, সকল হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন,  বিএম মোজাম্মেল হক,  আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

আরও পড়তে পারেন: বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ: এনবিআর চেয়ারম্যান

/ইএইচএস/এমএনএইচ/