জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দেশের ১ লাখ ১ হাজার ৫২৪ জন মুফতি ও ইমাম। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে গৃহীত ‘এক লাখ মুফতি, ইমামের দস্তখত সংবলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া’ স্বাক্ষর করছেন তারা। দস্তখত সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ফতোয়া জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন।
ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দেশব্যাপী ফতোয়ার মূল অংশটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। মসজিদের ইমাম ও মাহফিলের বক্তাদেরও অনুরোধ করব, ফতোয়ার বিষয়ে মানুষকে জানাতে। শিক্ষক, সমাজকর্মী, এনজিওকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বিনীত অনুরোধ করব, সর্বত্র বিষয়টিকে পৌঁছে দিতে। সবাই মিলে যদি আমরা উদ্যোগী হই, তবে বর্তমান অবস্থা অতিক্রম করে স্বপ্নের দেশগড়া কঠিন কিছু হবে না।
ফতোয়া স্বাক্ষর করেছেন রাজধানীর মালিবাগের ইকরা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হোসাইনুল বান্না। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ, এতে মানুষের ধারণা বদলাবে। আমার সবাই মসজিদে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলি। সারাদেশের সব মসজিদের ইমামকে আরও জোরালোভাবে কথা বলা উচিত।
ফতোয়া প্রসঙ্গে রাজধানীর নিকুঞ্জের বায়তুল মাহফুজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শরফুদ্বীন বলেন, জঙ্গিবাদের সঙ্গে আলেমদের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা এই ফতোয়ার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। ইমামদের পাশাপাশি যারা ওয়াজ মাহফিলে কথা বলেন, তাদেরও আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এর মাধ্যমে যারা জঙ্গিবাদীদের কথায় বিভ্রান্ত হয়েছেন, তারাও সে পথ থেকে ফিরে আসবেন বলে আমরা মনে করি।
ভৈরবের কুলিয়ার চর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিনাবিচারে মানুষ তো দূরে থাক, পশু-পাখিও হত্যা করা ইসলাম সমর্থন করে না। এ বিষয়ে সবসময় আলেমরা কথা বলেন। তবে একসঙ্গে লক্ষাধিক আলেম স্বাক্ষরিত ফতোয়া মানুষকে সচেতন করবে। এখন জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা উচিত। এর মাধ্যমে মানুষের মনে কোনও প্রশ্ন থাকলে, ভুল ধারণা থাকলে দূর হবে।
আরও পড়তে পারেন: গুপ্তহত্যা ও গণগ্রেফতারে হেফাজতের উদ্বেগ
/সিএ/এসটিএস/ এমএনএইচ/