সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকেই তারেকের মামলার প্রসঙ্গে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা হয়।
মাহবুব হোসেন বলেন, আইনে আছে ২০-৩০ বছর পরেও ফৌজদারি মামলায় আপিল করার বিধান আছে। যখন সুসময় আসবে, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। তখন আপিল করা হবে। তিনি তখন সুবিচার পাবেন।
মাহবুব হোসেন বলেন, ২০০৯ সালে দায়ের করা অর্থ পাচার মামলায় তারেক রহমানের নাম গন্ধও ছিল না। এ মামলায় তার কোনও আইনজীবীও ছিল না। আমরা গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আইনজীবী ছিলাম। তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে তাকে সাজা দেওয়া ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মাহবুব বলেন, তারেক রহমানের নামে কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তিনি কোন ঘুষ গ্রহণ করেননি; এমননি অর্থ পাচারও করেননি। তার দাবি, তারেক রহমান রাজনীতি করেন বলেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানকে নির্দোষ দাবি করে মাহবুব বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে গাজীপুরের টঙ্গিতে একটি বিদুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় হারবিন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের বাংলাদেশি এজেন্ট নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে কনসালটেন্সি ফি বাবদ সাড়ে ৭ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে। এই অর্থ সিঙ্গাপুরের ওসিবিসি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেন-দেন হয়। এই লেন-দেনের সঙ্গে তারেক রহমানের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, যে অর্থ লেন-দেন হয়েছে সেটি দেশের বাইরে হয়েছে। এটি চায়না হারবিন পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি তাদের বাংলাদেশি এজেন্ট নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল মাধ্যমে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে দিয়েছেন। বিষয়টি দুদকের সাক্ষী হিসেবে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী খাদিজা ইসলাম আদালতে লিখিত সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তারেক রহমানকে ফাঁসানোর জন্যই এই রায় দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যখন কোনও জাতীয় ইস্যু সামনে আসে, ঠিক তখনই চমক সৃষ্টির জন্য সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একেকটা ব্যবস্থা নেয়।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, কনসালটেন্সি ফি বাবদ গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে চায়না কোম্পানি যে টাকা দিয়েছিল, সেখান থেকে সাপ্লিমেন্টারি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তারেক রহমান মাত্র ১৯ লাখ টাকা খরচ করেছেন। সে টাকা পরবর্তী সময় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে ফেরতও দিয়েছেন তিনি। তাহলে মানি লন্ডারিং করলেন কীভাবে?
সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, নজরুল ইমলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
ঈদের দিন বাড়িতে জানিয়েছেন বাদশা ভারতে
নিখোঁজ ছেলেকে কারাগারে দেখে এলেন বাবা!
দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বলতে চলে যান প্রকৌশলী রাহাত
/এসটিএস/এফএস/