দীর্ঘ ২২ দিনের সফর শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালেদা জিয়া গুলশান-২-এ নিজের বাসভবন ফিরোজার উদ্দেশে রওয়ানা হন। সন্ধ্যা ৬ টা ৩১ মিনিটে তিনি বাসভবনে পৌঁছান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীরা সমবেত হওয়ায় উত্তরার থেকে ফার্মগেটের দিকে আসার রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রায় ত্রিশ মিনিটেরও বেশি সময় ফার্মগেটের দিকে যানচলাচল বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ খালেদা জিয়ার গাড়িবহর খিলক্ষেত এলাকা অতিক্রম করে। তবে এ সময় রাস্তার দু’পাশেই তীব্র যানজট ছিল। একই সময়ে বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র গাড়িজট দেখা গেছে।
দলীয় প্রধানের দেশে ফেরা উপলক্ষে স্বাগত জানাতে বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত হন। বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অভ্যর্থনা জানান।
এর আগে বিকাল চারটা থেকে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন। এর মধ্যে বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যারা এসেছিলেন, তাদের অনেকেই ছিলেন বিমাবন্দর এরিয়ার ভেতরে। বিকেল সাড়ে চারটার পর বিমানবন্দর রোড ও মোড়ের কাছেই ব্যারিকেড দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে কুড়িল-বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার ছিল।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার নিরাপত্তাবাহিনী রয়েছে। তার গাড়ি বহরে থাকা ছাত্রদলনেতা এজমল হোসেন পাইলট জানান, পুলিশ আমাদের প্রথমে বিমাবন্দরে প্রবেশ করতে দিলেও বিকাল সাড়ে চারটার পর বাধা দেয়। এতে বিমানবন্দর মোড়েই অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফরে যান খালেদা জিয়া। এই সফরে তিনি তার ছেলে তারেক রহমান, তার পরিবার ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীকে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। ২০১৪ সালে জুলাইয়ে ওমরা পালন করেছিলেন খালেদা জিয়া। ওই সময় তারেক রহমান সঙ্গে ছিল।
বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়ার সৌদি সফরে তার সঙ্গে ছিলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ, তার একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার, আলোকচিত্রী নুরুউদ্দিন আহমেদ এবং গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। এছাড়া তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু, তার বড় মেয়ে শাহিনা খান জামান বিন্দু ও স্বামী সৈয়দ শফিউজ্জামানও এবার হজ করেছেন। বৃহস্পতিবার একই বিমানে সৌদি আরব থেকে রওয়ানা হন খালেদা ও তারেক রহমান। পরে দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির পর তারেক রহমান লন্ডনের উদ্দেশে এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন।
/এসটিএ/এমএনএইচ/