অসুস্থতা নিয়ে প্রকাশিত খবরে ক্ষুব্ধ সুরঞ্জিত

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তনিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যম বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার নিজের অসুস্থতা নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসব অভিযোগ করেন।
এসব সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘রোগ-শোক মানুষের স্বাভাবিক বিষয়, কেউ এর ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু সেটা নিয়ে কেউ বিশেষ মতলববাজি করবে সেটা কাম্য হতে পারে না।’
নিজের শরীরের অবস্থার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন পত্রিকাসহ নানা জায়গায় আমার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবেশিত কিছু তথ্য আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ আমার প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন আবার কোনটিতে বিভ্রান্তিমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য রয়েছে।’
কিছু গণমাধ্যমের ‘অতিরঞ্জিত’ সংবাদের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিষয়ে তথ্য পরিবেশিত হয়েছে যে, আমি নাকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী আছি। এমনকি আমার এলাকাতেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমি কবে কোনও তারিখে মৃত্যুবরণ করবো তাও ঘোষণা করা হয়েছে।’

মায়েলোডিস প্লাস্টিক সিনড্রোম (Myeloidis Plastic Syndrome) এ ভুগছেন জানিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিক জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এমজিএ হাসপাতালের চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসারত। রক্তে রেড সেলের পরিমান কম হওয়ায় বোন ম্যারো পরীক্ষার জন্য নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।

রোগটির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছে এটা ক্যান্সারে টার্ন নেওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। আমার রোগের লক্ষণ হচ্ছে, রক্তে হিমগ্লোবিন উৎপন্নের মাত্রা কমে গেছে। এজন্য মাঝে মাঝে আমাকে রক্ত নিতে হয়। এটা কোনক্রমেই লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্প্রতি পাস হওয়া ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৬’ বিল নিয়েও কথা বলেন। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এনজিও সাধারণ আইনের দ্বারা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমকে সংবিধানের অধীনে একটা আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তোমরা (গণমাধ্যম) বলতে পারো। তোমাদের মানবাধিকারের প্রটেকশন আছে। কোনও ফরেন বডির তো সেটা নেই। একজন নাগরিক মত প্রকাশ করে অনেক কথা বলবে। সেটা তার অধিকার। এনজিও আইনের অধীনের কাজ করবে। কেউ বিরোধীদলের মত কথা বলতে চাইলে তাদের অপজিশনে যেতে হবে।’

সংসদে পাস হওয়া নতুন আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা নতুন কোনও আইন না। ১৯৭৮ সালে একবার, পরে ৮২ সালে মার্শাল ল’ দিয়ে এটা করা হয়েছিলো। সেটাকেই আমরা নতুন কিছু যোগ করেছি।’

/ইএইচএস/এমও/