জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রক্রিয়া সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি জোটের শীর্ষনেতাদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
রবিবার দুপুর ১২ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে দুপুর দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মির্জা ফখরুল।
বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিবরা অংশগ্রহণ করেন।
গত শনিবার (২৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানান। ওই সময়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। পরে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকেও জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের মন্তব্য করেন।
‘এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচন নয়’
ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ করা হবে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী নির্বাচন করতে চলছে। সরকার জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে চায়। এতে জনগণকে প্রত্যক্ষ ভোট থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থা কাজ করছে না। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি আর হবেও না। নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড নাই। তাই ২০ দলীয় জোটের সন্দেহ, জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
‘আইন-শৃংখলাবাহিনীর বিবাদে জনগণ আস্থা হারায়’
জোট সমন্বয়ক ফখরুল বলেন, ইতালি নাগরিক তাবেল্লা হত্যায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে। তাদের এ রকম বক্তব্যে প্রমাণিত হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সরকার বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমকে জড়িয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এ রকম তথ্য আসলে জনগণ আস্থা হারায়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, প্রতিদিনই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। দেশে আইনের শাসন নাই। মাঝে মাঝে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নাই।
‘জোট গণতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রাম করছে’
ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের একটি লক্ষ্য হচ্ছে সব দলকে ধ্বংস করে দিয়ে বাকশাল কায়েম করা। সরকার গণতন্ত্রের মোড়কে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে। কিন্তু, তাদের এই চেষ্টা যাতে সফল না হয় সেজন্য আমরা ২০ দলীয় জোট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।
/এসটিএস/টিএন/
আরও পড়ুন: বিএনপিকে তো আমি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি না: ওবায়দুল কাদের