নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের করা সার্চ কমিটির অন্তত দুই জন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে বিএনপি। এর মধ্যে একজন মো. সাদিক; যিনি সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, দ্বিতীয়জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীণ আখতার। প্রথমজন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের সময় ইসির সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন ও দ্বিতীয়জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত বলে তাদের দুজনকেই বাদ দেওয়ার দাবি জানাতে পারে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা নামগুলো নিয়ে আলোচনা করব। আরও দুজনের নাম যুক্ত হোক, এরপর দলীয় শীর্ষফোরামে এ নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার আগে আমি এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। খন্দকার মোশাররফ এও বলেন, আমাদের দাবি ছিল, দলনিরপেক্ষ ও সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি গঠন করতে হবে। ফলে, আমরা দেখব, তারা সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য কি না।
বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে সার্চ কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে যাদের নাম উল্লেখ আছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দুটি সূত্র জানিয়েছে, আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি ছাড়াও সার্চ কমিটিতে থাকছেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতার। তবে বিচারপতিতে মধ্যে কারা এ দায়িত্বে আসছেন তা এখনও নিশ্চিত করেনি সরকার। এ বিষয়ে বঙ্গভবন থেকেও সরাসরি কোনও নির্দেশনা বা সুপারিশ ছিল না বলে সেখানকার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, সার্চ কমিটিতে থাকা শিরীণ আখতার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী হলুদ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই প্যানেল থেকে নির্বাচন করে ২০১৪ সালে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সদস্য হয়েছিলেন তিনি।
মো. সাদিক প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, মো, সাদিক ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের সময় দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপি বরাবরই বলে আসছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশে-বিদেশে অগ্রহণযোগ্য।
সূত্রটি এও জানায়, খুব দ্রুতই খালেদা জিয়া দলের নীতিনির্ধারকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করতে পারেন, এ বৈঠকেই সার্চ কমিটির সদস্যদের নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়রনেতারা নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি গঠনে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তারা এও বলেছেন, নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত জনগণ মানবে না।
জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এগুলো দলীয় ফোরামে আগে আলোচনা হোক। এরপর বলা যাবে।
/এসটিএস/টিএন/