রিজভী বলেন, ‘মিথ্যার বেসাতি ও ক্ষমতার দম্ভ পরিহার করে দেশের স্বস্তি, শান্তি, গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন, নাগরিক স্বাধীনতা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ অত্যন্ত জরুরি। সেজন্য আজ থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যদি মনে করে থাকেন যে, শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তাহলে তারা মূর্খের স্বর্গেই বাস করছেন। তারা অলীক স্বপ্ন দেখছেন। শেখ হাসিনাকে জনগণ বিশ্বাস করে না, তাই শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচন হবে না।’
বিএনপি নেতা রিজভী দাবি করেছেন, পাহাড়ে ভূমি ধসে মানুষের মৃত্যু, হাওরে ফসল নষ্ট এবং সড়কপথে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুতে এবারের ঈদ দেশের মানুষের জন্য শোক ও কান্নাকাটিতে পরিণত হয়েছে।’
ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করেছেন। ঈদের প্রাক্কালে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াতে সরকারি উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘ঈদে যানজটে ঘরমুখী মানুষের নাকাল অবস্থায় সরকারের কোনও সার্ভিসই ছিল না। তবে যোগাযোগমন্ত্রীর লিপ সার্ভিসের কোনও কমতি ছিল না। পরিবহন ও যাতায়াতে তাই এবারের ঈদে মানুষের মন থেকে শান্তি, স্বস্তি উবে গিয়ে সেখানে ভীতি আর শঙ্কার আসন গেড়ে বসেছে।’
রিজভী দাবি করেন, ‘খাদ্য পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার ভিজিএফ কার্ডে চাল দিতে পারেনি। ঢাকাসহ দেশব্যাপী চালের দাম অত্যধিক বেশি। স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে তা দুষ্প্রাপ্য। দেশে নীরবে নয় বরং প্রকাশ্যেই দুর্ভিক্ষের আগ্রাসন ধেয়ে আসছে। সুতরাং শান্তি কেবল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মনে। দেশের সাধারণ মানুষের মন নিরানন্দ বেদনায় ভারাক্রান্ত।অনাহার-অর্ধাহারে বিপর্যস্ত।’
/এসটিএস/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: