মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান বি. চৌধুরী ও ড. কামালের

এ কিউ এম বদরুদ্দোজা ও ড. কামাল হোসেন (ফাইল ছবি)রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তারা মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খুন, অগ্নিসংযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় লাখ লাখ মানুষকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা বন্ধ করতে হবে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করতে হবে।’ তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমার সরকারের গঠিত কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের সসম্মানে পুনর্বাসন করতে হবে।’

এই দুই জ্যেষ্ঠ নাগরিক রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং বিশ্ব জনমত গঠনে তাদের প্রয়াস অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘রাশিয়া, চীন, ভারতসহ অন্যান্য মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তারা বলেন, ‘যেহেতু নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, সেহেতু এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে তাদের সৃষ্ট সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করার জন্য আহ্বান জানানো হবে। উভয় দেশের মধ্যে এ ধরনের অনভিপ্রেত ও অমানবিক সমস্যার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতেই হবে এবং বাংলাদেশসহ মিয়ানমারের মধ্যে সুন্দর প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক সৃষ্টির ভিত্তি এখনই স্থাপন করতে হবে। সুতরাং, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমঝোতামূলক আদান-প্রদান হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই উভয় দেশকে অনতিবিলম্বে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে।’

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এই দুই বর্ষীয়ান নেতা ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন।