রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মিয়ানমারে যখন কসাইয়ের মতো মানুষ কাটা হয়, তখন ভারত বললো আমরা মিয়ানমারের পাশে আছি। এখন ভারত বলেছে রোহিঙ্গাদের সমস্যায় আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি। ভারতের এমন অবস্থান খুবই মারাত্মক। এটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ ছিল প্রতিবাদ করা। কিন্তু তারা সেটা করেনি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই সরকার কঠিন অবস্থান নিলে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সাহস পেত না মিয়ানমার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নয়, মিয়ানমার ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকা উচিত প্রতিবেশী বন্ধু দেশগুলোর।’
কোন দেশের সমর্থন নয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্ব-সম্মানে ফেরত পাঠানো হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য কারণ সরকার সেই অবস্থান নিতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি যে ভাষায় কথা বলেন, আমাদের সরকার কেন সেই ভাষায় কথা বলতে পারছে না। কিসের ভয়? বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ রোহিাঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে সেখানে কিসের ভয়?’
দেশের সাধারণ মানুষ ত্রাণ না দিলে বাংলাদেশে আসা একজন রোহিঙ্গাও বেচেঁ থাকতেন না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখলাম, রোহিঙ্গারা কি মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কোনও শৃঙ্খলা নেই। দেশের সাধারণ মানুষ ত্রাণ না দিলে কেউ বাচঁতো না।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন , ঢাকা মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি কাজী আবুল বাসার প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
তাজিয়া মিছিল শুরু
প্রবীণদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় দেশ
নভেম্বরে এশিয়ার পাঁচ দেশে ট্রাম্পের সফর, তালিকায় নেই বাংলাদেশ