মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘বর্তমানে মিল গেটে সরু চালের দাম রাখা হচ্ছে মানভেদে প্রতি কেজি ৬০/৬৫ টাকা। পাইকারি পর্যায়ে এটি কেজিতে ৬৫/৬৮ টাকা। আর খুচরা বাজারে এ চালের দাম কেজিতে ৬৫/৭০ টাকার মধ্যে এবং গলির মোড়ের বেশিরভাগ দোকানি কোনও সরু চাল ৭০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। মোটা চাল এখনও ৫০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছেনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পেঁয়াজ, আদা, রসুন, কাঁচা তরিতরকারিসহ নিত্যপণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বি। ৬০ টাকার কমে কোনও তরিতরকারি কেনা যাচ্ছে না। কাচঁবাজারে সব পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে আগুন জ্বলছে। চাল-ডাল-লবণ-তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। এরই মধ্যে কয়েক দফা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জীবন হয়ে উঠেছে মানবেতর।’
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগের কথা না ভেবে পুরস্কারের পেঠরে ছুটছে। কিভাবে নোবেল পুরস্কারের মতো একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার হাতিয়ে নেওয়া যায় সেজন্য তিনি লবিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তার দাবি, এজন্য তিনি নাকি টাকার বিনিময়ে লবিষ্টও নিয়োগ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক ফোরামে গিয়েও রোহিঙ্গা সংকটের কোনও সুরাহা করতে না পেরে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর সংকটে থাকলেও আওয়ামী নেতারা এখন প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কার এনে দিতে লবিংয়ে ব্যস্ত। যেন ‘রোম যখন জ্বলছে, নীরু তখন বাঁশী বাজাচ্ছে’। বাংলাদেশের মানুষ এখন মহাদুর্যোগে।’
রিজভী বলেন, ‘দেশের আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়েছে, ভয়াল দুঃশাসনের কবলে গোটা জাতি, আর প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারের পেছনে ছুটছেন। প্রধানমন্ত্রী বন্দুকের নল তাক করে রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে নিজের কর্তৃত্বে আনতে এখন মরিয়া হয়ে আছেন।’