বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা

বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হচ্ছেন আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দিতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার ভোর সাড়ে ছয়টার পর থেকে বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিমানবন্দর সড়কে তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিক্ষক সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠনের নোত-কর্মীতের অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুনও লক্ষ্য করা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে তারা এখানে এসেছেন।

এছাড়াও বিমানবন্দর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে এবং ভিভিআইপি গেটে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে দেশে-বিদেশে বিপুল প্রশংসিত হওয়াসহ ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ খেতাবে ভূষিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে এই গণসংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে বিমানবন্দরে থাকবেন মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, শিক্ষক, লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা। 

বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে মন্ত্রিসভার  সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বিশিষ্টজনরাও উপস্থিত থাকবেন। বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হারুন অর রশীদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভিসি কামরুল হাসান, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ঢাবির শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক রাহাত খান, আবেদ খান, মনজুরুল আহসান বুলবুল, অজয় দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্রশিল্পী আলমগীর, ফারুক, কবরী সারোয়ার প্রমুখ।

এদিকে, বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ নজর দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান তারা। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ইতোমধ্যে  ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক হয়ে গণভবনে প্রবেশ করবেন, ওইসব সড়কে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কয়েক দফা  পরিদর্শনও করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহের সফর শেষে শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বহনকারী বিমানটি সকাল ৯টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাবেন।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের পথে লন্ডনের উদ্দেশে সোমবার ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা: বিমানবন্দরে থাকবেন বিশিষ্টজনরা, সড়কে জনতা
শান্তিতে নোবেলের অংশীদার বাংলাদেশের দুই সংগঠনও
অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, ট্যারিফ কমিশনের কাজ কী