বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘ভোটারবিহীন সরকার অবৈধ ক্ষমতার শেষপ্রান্তে এসে এখন দিশেহারা।চারদিকে বিদায়ের বাঁশি বাজতে শুরু করেছে। তাই এখন দ্বিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে শেখ হাসিনার সরকার আরও বেশি উন্মত্ত হয়ে উঠেছে।’
বুধবার (১১ অক্টোবর) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী আহমেদ জানান, গত দুদিনে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, গাইবান্ধা, বরিশাল, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে নির্বিচারে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। কোনও কোনও স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশ নেয় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরাও।
তিনি আরও জানান, সরকারের সমর্থকরা বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়, এমনকি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিনা কারণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রুহুল কবির বলেন, ‘মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে এখন সর্বোচ্চ আদালতকে কব্জায় নিতে সরকারি এজেন্সির লোকেরা যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়েছে, তা দেখে দেশবাসী শুধু হতবাক নয় রীতিমত শঙ্কিত।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিও আজ অনিরাপদ। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনরা প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ, গালিগালাজ ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। তারা প্রধান বিচারপতিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।’
রিজভীর অভিযোগ, ‘প্রধান বিচারপতির ওপর যা করা হচ্ছে, তা সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত আক্রোশ। রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যাওয়াতে প্রধান বিচারপতির ওপর চলছে এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রবল ঝাপটা।’
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ কাজ চালাতে তিন এনজিওর প্রতি নিষেধাজ্ঞা