রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের কূটনৈতিক পরাজয় ঘটেছে এবং এত বড় কূটনৈতিক পরাজয় দেশের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তার দাবি, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বন্ধুহীন হয়ে এখন আবোল-তাবোল বলছে। রোহিঙ্গা সংকটে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাউকেই বর্তমান সরকার পাশে পায়নি।’
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে পাশ কাটিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা অ্যারেজমেন্ট –এ স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘসহ দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর'র প্রধান বলেছেন, এই চুক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও এটাকে ব্যর্থ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।’
রিজভী আরও বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো শুরু হবে। কিন্তু কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া শেষ হবে, তা তিনি বলেননি। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে যে প্রস্তাবগুলো রয়েছে তাও অস্পষ্ট। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কিংবা নিরাপত্তার বিষয়টি সেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর ‘এত বড় কূটনৈতিক অর্জন আর কখনও হয়নি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য তৃতীয় কোনও দেশের প্রয়োজন নেই।’ –এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এত বড় অর্জন হলো, তাহলে এখনও প্রতিদিন রোহিঙ্গারা লাইন ধরে আসছে কেন? জনমানবহীন ভাসানচরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিলেন কেন?’
তার ভাষ্য, ‘চুক্তির পরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ না দেখে আপনারা মিয়ানমারের কাছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছেন।’