বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় সমাপনী বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।
সরকার অন্তঃসারশূন্য আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতগুলো ব্যাংক দিয়েছে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব– সবাইকে ব্যাংক দিয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকের মালিক মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, তার ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও বরখাস্ত করা হয়েছে। এত চুরি সেখানে হয়েছে।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতির সামনে একটা নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শহীদ জিয়া। সেই স্বপ্ন ছিল পরিবর্তনের। অর্থাৎ, আগের রাজনীতি নয়; মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নের রাজনীতি। দারিদ্র্য দূর করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নকে গ্রহণ করে দেশের মানুষ দিনরাত কারখানা খোলা রেখে উৎপাদন করেছেন। কৃষক-কৃষাণীরা উৎপাদনের গান গেয়েছেন। স্কুলে স্কুলে ডাবল শিফটে পড়াশোনা হয়েছে। মানুষ নতুন স্বপ্নের পথ দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছিল এদেশের শত্রুরা।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় নয়, মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি (জিয়া) অর্থনীতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন। সেই ভিত্তির ওপরেই আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অট্টালিকা নির্মিত হচ্ছে।’
বিএনপির মহাসচিবের অভিযোগ, সরকারের প্রতিটি মেগা প্রজেক্ট হলো মেগা চুরির প্রকল্প। দেশকে লুট করে নিয়ে চলে যাবে। এ অবস্থা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক গিলে ফেলেছে, বেসিক ব্যাংক গিলে ফেলেছে। এমনকি সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক গিলে ফেলার চেষ্টা করেছিল। সরকার দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বৈদেশিক আয় কমতে শুরু করেছে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলোও লোকসানের মুখে। প্রতিদিন খবরের কাগজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংবাদ।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি থিওরি দিয়েছেন। কোনও একটি দেশের কোনও একটি পত্রিকায় তাকে নাকি তিন নম্বর সৎ নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাহলে এ দেশের মানুষ কোথায় যাবে?’
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে বাক্সবন্দী করেছে। আর এর মাধ্যমে কথা বলার অধিকার, চিন্তা করার অধিকার, সমাবেশ করার অধিকার—এসব সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।