একদলের দুই কথা কী করে হয়: ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের

রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাদের দুই রকম বক্তব্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারণে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘একদলের দুই কথা কী করে হয়।’

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স  ইনস্টিটিউশন অডিটরিয়ামের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা ফখরুল সাহেব ও রিজভীকে জিজ্ঞাসা করেন। আসলে বাজারে গুঞ্জন আছে, তাদের মধ্যে একজন তারেকের লোক, আরেকজন বেগম জিয়ার লোক। তাহলে কি তাদের দুজনের মধ্যে কোনও পার্থক্য আছে মূল্যায়নের? নাহলে রিজভী এককথা ফখরুল আরেক কথা বলবেন কেন? একদলের দুই কথা কী করে হয়।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা তো সেলফ কন্ট্রাডিকশন হয়েছে। আসলে কথা এটা না, আসল বিষয়টা হচ্ছে নির্বাচনে বিএনপি জিতলে সুষ্ঠু নির্বাচন, আর না জিতলে সুক্ষ্ম কারচুপি। নারায়ণগঞ্জের মতো রংপুরেও একজন লোক পর্যন্ত এখনও নির্বাচন নিয়ে ‘ফেয়ার হয়নি’ এমন কথা বলতে পারেনি। কোনও পর্যবেক্ষক কোনও সমালোচক কোনও প্রকার বিরূপ  সমালোচনা এ পর্যন্ত  করতে পারেনি।”

নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার কারণে ধন্যবাদ জানাতে না পারাটাও বিএনপির সেলফ কন্ট্রাডিকশনের কারণ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘‘একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে সবাই ধন্যবাদ জানিয়েছে। বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাতে পারেনি। আজকে (শুক্রবার) ফখরুল সাহেব বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আবার বলছেন কমিশন ব্যর্থ।’ তাহলে এটাও সেলফ কন্ট্রাডিক্টরি।”

জাতীয় নির্বাচনের জন্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে কোনও টোপ ফেলা হলো কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘আমি টোপ ফেলা বলবো না। বিএনপির জন্য জাতীয় নির্বাচনে তারা তাদের নিজেদের সম্পর্কে নিজেদের আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। তারা কাউকে ২৫ সিট দিচ্ছে,আমাদেরকে কখনও ৩০ সিট, কখনও ৪০ সিট-এই যে একটা অহংকার, এটা মনে হয় এখন ভাঙবে এবং জাতীয় নির্বাচনে এটা তাদের জন্য একটা বার্তা।’

রংপুরের নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের কিভাবে বিজয় হলো প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এত ভালো একটা নির্বাচন হয়েছে, তারা বলেছিল- সরকার হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু সরকার কোনও প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি। এটা কি আমাদের রাজনৈতিক বিজয় নয়?’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন প্রশাসনকে জানাতে যে, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন আমরা জাতিকে উপহার দিতে চাই।শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটা সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব রকমের সহযোগিতা করেছে। এখানে হস্তক্ষেপের কোনও অভিযোগ নেই। অভিযোগের কোনও কারণও নেই। এটা কি রাজনৈতিক বিজয় নয়।’

রংপুরের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের ওপরে কোনও প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রার্থীর একটা বিষয় আছে। আমরাও ভালো প্রার্থী দিয়েছিলাম, ভোটাররা জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে।’

রংপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘দেখুন, এটা নিয়ে বিশ্লেষণ করা, আলাপ-আলোচনা করা, এর জন্য দলীয় ফোরাম আছে। দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনার আগে আমি এই ব্যাপারে কোনও কথা বলতে পারি না।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে নোয়াখালী জেলা সমিতির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল কাদের। নোয়াখালী সমিতির সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাসদ (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল হক, সহসভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, আব্দুল হাই প্রমুখ।