এতে অংশ নেওয়া বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের একজন প্রভাবশালী সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল কূটনীতিকদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ৮ ফেব্রুয়ারি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ও মামলার আদ্যোপান্ত পড়ে শোনান।
সূত্রমতে, আমন্ত্রিত কূটনীতিকরা তাদের ডেকে পরিস্থিতি বর্ণনা করায় বিএনপি নেতাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তারা দলটির ভাষ্যের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়ার আদালতে দেওয়া বক্তব্যকে বিদেশিরা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন।
বৈঠকে জাপান ও নেপালের রাষ্ট্রদূত এবং ভারত, পাকিস্তান, চীন, জার্মানি, কুয়েত, স্পেন, সৌদি আরব, ইতালি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ভ্যাটিক্যান সিটি, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মরক্কো ও লেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএআইডির প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন।
বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য, মামলার তথ্যপ্রমাণ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
অবশ্য বৈঠক শেষে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘নাথিং টু ব্রিফ, ব্রিফ করার কিছু নাই। কূটনীতিকদের সঙ্গে আমরা রুটিনমাফিক এসব করি। এটা প্রায়ই করি আমরা।’ তিনি আরও বলেন,‘আজকেও সেরকম একটা মিটিং ছিল। স্পেশাল কিছু নয়। আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধুমাত্র মতবিনিময় হয়েছে–এ পর্যন্তই।’
কূটনীতিকদের সঙ্গে কি আলোচনা করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাহলে তো আমাকে চলে যেতে হবে। আগেই বলেছি আমরা রেগুলার যে ব্রিফিং করে থাকি, সেটাই করেছি। আর সেই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি।’
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ইনাম আহমদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, রিয়াজ রহমান, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।