প্রথম দফায় গ্রেফতারের পর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাব জেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। এবার তাকে রাখা হলো পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের অফিস ভবনে। এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৭ সালে তাকে তিন দফায় আটক করা হলেও কারাগারে নেওয়া হয়নি। তবে অঘোষিতভাবে তখন সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের বাড়িতে তাকে অনেকদিন গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুলশানের বাসায় এবং ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি গুলশানে নিজ কার্যালয়ে দুই দফায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। সেসময় তিন মাস তিন দিন (৯৩ দিন) অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। ওই বছরেই এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরেন এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং বাকশাল সরকারের প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। তৎকালীন মোশতাক সরকারের সময় ওই বছরের ৩ নভেম্বর সেই কারাগারেই তাদের হত্যা করা হয়।
এরপর ক্ষমতার পালা বদলের এক পর্যায়ে প্রায় ৯ বছর দেশ শাসনের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একাধিক মামলায় প্রথমে কিছুদিন সাব জেলে রাখা হলেও পরে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছর সাজা ভোগের পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।
এরশাদ সরকারের আরেকজন প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীকেও ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কারাগারে যেতে হয়।
২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে ‘বিশেষ কারাগার’ ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। কারাগারে যাওয়ার আগে ১৯৯৬ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বিরোধী দলের নেত্রী থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাকে তার ধানমন্ডির বাসভবন ‘সুধা সদন’ থেকে গ্রেফতার করেছিল যৌথবাহিনী।পরে ২০০৮ সালের ১১ জুন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।