এখন বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য খালেদা জিয়ার মুক্তি: ফখরুল

বিএনপির মানববন্ধন

খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো। আমি আবারও সব রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ, ব্যক্তি সবাইকে গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারকে জানাতে চাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ 

বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল সাড়ে ১০ থেকে বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।


বিএনপির মানববন্ধন

তিনি বলেন, ‘আজ মানববন্ধনে পুলিশের আচরণ আপনারা দেখেছেন। কী রকম আচরণ তারা আমাদের সঙ্গে করছেন। তাই দলের নেতাকর্মীদের বলবো, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

বিএনপি’র এই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের একমাত্র আহ্বান, আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে, গণতন্ত্রকে, মানুষের ভোটের অধিকারকে মুক্ত করি। সরকার  নির্বাচনের কথা বলছে। নির্বাচন করতে হলে প্রথমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। তার জন্য খালেদা জিয়া ও রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তাহলে নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’ 

কারাগারে প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বাড়ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। গতকাল তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। তখন আমরা জানতে পেরেছি খালেদা জিয়া এতোই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে দ্বিতীয়তলা থেকে নিচতলায় নামতে পারেননি। আমরা বারবার  বলছি, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হোক। বিশেষ করে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, তার যে ধরনের পরীক্ষা বা এমআরআই করা দরকার তা অন্য হাসপাতালে করা সম্ভব নয়। একমাত্র ইউনাইটেড হাসপাতালে এর ব্যবস্থা আছে। তার দুই হাঁটুতে মেটাল প্রতিস্থাপন করা আছে। সে কারণ অন্য কোথাও তার এমআরআই করানো সম্ভব না।’ 


বিএনপির মানববন্ধন

তিনি বলেন, ‘এতবার বলার পরও খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তার কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সরকার। আমরা জানি সরকার কেন খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। একমাত্র কারণ হচ্ছে তারা আতঙ্কিত। যদি তিনি বাইরে থাকেন, তাহলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার  জন্য যে আন্দোলন তা কোনোভাবেই প্রতিরোধ করতে পারবে না সরকার। তাদের পরাজয় হবে অবশ্যম্ভাবী।’ 

মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকার অবৈধ। খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পর প্রথমে ডিভিশন না দিয়ে তাকে নির্যাতন করেছে। একটি জামিনযোগ্য মিথ্যা মামলায় তাকে কলাকৌশলে জামিন দিচ্ছে না। সরকার তাকে  এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি পাতানো খেলা খেলতে চায়। কিন্তু সেই খেলা তারা আর খেলতে পারবে না। জনগণ এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা শুধু সুযোগ পেলে ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহাজাহান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুল হাই, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, কামরুজ্জামান রতন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, রিয়াজ উদ্দিন নসু, রফিক সিকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির হাবিবুর রশিদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী  দল ও ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট ও থানার নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মানববন্ধন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। এ সময় নয়াপল্টন এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন- বিএনপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন