সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার যা নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনও তা-ই করছে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, নীতি ও নিয়ম রয়েছে, কিন্তু, প্রতিষ্ঠানটি সে নিয়ম মানে না। একতরফাভাবে তাদের যে ব্লু প্রিন্ট, সেদিকে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'বিরোধী দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করা, কোনও ডায়ালগ ওপেন না করা, দেশের মানুষের যে ওপেনিয়ন, সেটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই সরকার তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী কবার জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পোক্ত করার জন্য, অন্ধকার গহ্বরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।' মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা বরাবরই মূল রাজনৈতিক বিরোধী দলকে (বিএনপিকে) বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে। সাধারণ মানুষ যে ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তারা ক্ষমতায় আসার পরেই বাতিল করে দিয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল অসহায়বোধ করছে। শুধু আমরা বলছি না, বিদেশের বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোও বলছে, এই সরকার একটা স্বৈরাচারী সরকার। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু হতে পারে সেই অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের রয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন দলনিরপেক্ষ নয়, সরকার তাদের তৈরি করেছে, সরকার তাদের পছন্দনীয় লোকজন দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এ নির্বাচন কমিশনের একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার কোনও যোগ্যতাই নেই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের (আ. লীগের) লক্ষ্যই হচ্ছে একতরফা নির্বাচন করা, বিএনপি ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়া।
ফখরুলের দাবি, এটা করা হচ্ছে, কারণ আওয়ামী লীগ পুরোপুরি গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনগণের কাছে তাদের কোনও ভিত্তি নেই, যাওয়ার জায়গা নেই। আজকে বিএনপি যদি নির্বাচন করে তাহলে তাদের ভরাডুবি হবে। সে কারণে তারা গায়ের জোরে টিকে থাকার জন্য একটার পর একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে এবং সেই নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন করতে চাইছে—যা কখনোই দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
জিয়ার মাজারে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ অনেকে।