বি.চৌধুরী শুক্রবার (৮ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল ৭১-এ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন।
বি. চৌধুরী বলেন, ‘বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেলখানায় আটক রাখা হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে কী করে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে।’
প্রবীণ এই পার্লামেন্টারিয়ান বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্ন উঠলে এই সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে নাই।’ অথচ তারাই মাত্র ১৫ মিনিটে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন।’’
বি. চৌধুরী বলেন, ‘অন্যদিকে আমি যখন সংসদে উপনেতা ছিলাম, সেসময় ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একদিনে তাদের (আওয়ামী লীগ) দাবি বাস্তবায়ন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করি এবং মাত্র চার মাসের মধ্যে নতুন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছিলাম।’
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা জাতীয় সরকারের বিধান করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী এবার আগের চাইতে আরও বিশাল আকারের বাজেট দিয়েছেন। কিন্তু বিগত বছরে মহাবাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই। গতবারের সংশোধিত বাজেট তার প্রমাণ।’
বি. চৌধুরী বলেন, ‘এছাড়া, বাজেটে যে বিরাট অঙ্কের ঘাটতি দেখানো হয়েছে, তা পূরণ করতে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে গতবারের চেয়ে দেড়গুণ ঋণ নেবে বলে জানানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাজেটে নতুন শিল্প বিনিয়োগের উদ্যোগ নেই। নতুন কর্মসংস্থানের কোনও ইঙ্গিত নেই। বিশালাকার বাজেট দিয়ে ভোটারদের ভাওতা দেওয়া হয়েছে।’
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘গতবারের বাজেটে ট্যাক্স, খাজনা বাড়বে না বলা হলেও পরে নির্বাহী আদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পেট্রোল ও যাতায়াত ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অতীষ্ঠ হয়েছে। তারপরও মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গত ১০ বছরে নাকি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ভালো করেই জানেন, দ্রব্যমূল্য আর ট্যাক্সের চাপে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। বাজেটে দুর্নীতি দমনের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই।’
আ.স.ম আবদুর রব ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বলেন, ‘পাখির মতো মানুষ মারার বিচার করতে হবে। সবাইকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রমাণ নেই বলে একজন এমপিকে রক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৬৭ জন মানুষকে বিনা বিচারে গুলি করে মারা হয়েছে।’ তিনি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন— জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নেজামে ইসলামীর সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মুসলিম লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম, বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, আবদুর রউফ ইউসুফী, সৈয়দ নসরুল হাসান,আকবর হোসন পাঠান প্রমুখ।