সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য শেষ পরীক্ষা হবে ৩ সিটি নির্বাচন: মওদুদ

 



মওদুদ আহমদবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘খুলনা সিটি নির্বাচনের পরে আমরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনে গিয়েছিলাম দেশের মানুষকে জানাতে যে, কোনও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হতে পারে না। এটা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি।'

শুক্রবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত 'মুক্তি বারতা তোমার হাতে দেশমাতা খালেদা জিয়া' শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আসন্ন সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা বারবার প্রমাণ করতে চাই, কোনও দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় না। এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এটাই হবে শেষ পরীক্ষা। এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাবে কিনা, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।'




তিনি বলেন, ‘এই সিটিগুলোর নির্বাচন যদি খুলনা এবং গাজীপুরের মতো হয়, তাহলে প্রথমত আমরা প্রমাণ করতে পারলাম যে একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কোনও দিন নিরপেক্ষ হয় না; দ্বিতীয়ত, কোনও দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন করবো কি করবো না, এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘গাজীপুরে কোনও নির্বাচন হয়নি। শত প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর পরেও যারা পত্রিকা পড়েছেন, তারা দেখেছেন, পরিষ্কার হয়ে গেছে যে গাজীপুরে কোনও নির্বাচন হয়নি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'বাংলাদেশ একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে আছে, ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। এর চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের ভাগ্যে স্বাধীনতার পর আসেনি। সেই চ্যালেঞ্জটা হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ। কেননা, এগুলো আমরা হারিয়েছি। এ সবকিছু আমাদের ফিরে পেতে হবে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের সম্মুখে শুধু বিএনপি নয়, সারা বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার ও দলের মানুষ, একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া।'

তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনে বিলম্ব করার চেষ্টা করছে। বিলম্বিত হলেও বেগম জিয়া আমাদের মাঝে খুব শিগগিরই ফিরে আসবেন। তিনি মুক্তি পাবেন, এই মুক্তি বন্ধ করতে পারবেন না। জামিন একটা মৌলিক অধিকার। জামিন তো মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নয়। আইনে যেকোনও মানুষের জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু এই আইনের অপপ্রয়োগ করে তার জামিন বিলম্ব করছেন তারা। কারণ, নিম্ন ও উচ্চ আদালত তাকে জামিন দিয়ে দিয়েছেন। হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন, আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছেন। তারপর আর কিছু থাকে না।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘পুরনো কিছু মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে খালেদা জিয়াকে হয়রানির সম্মুখীন করেছে আওয়ামী লীগ।’

তিনি আরও বলেন, 'খালেদা জিয়া যেদিন বের হয়ে আসবেন সেদিন থেকে দেশের রাজনীতিতে নতুন স্রোতধারা বইবে, গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। সেই জোয়ার বন্ধ করার ক্ষমতা এই সরকারের থাকবে না।'

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম রানা প্রমুখ।