৩ সিটির ভোটের উত্তাপ ধানমন্ডির আ. লীগ কার্যালয়েও





আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ের বাইরের চিত্র
রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উত্তাপ দেখা গেছে ঢাকায় ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের কার্যালয়েও। সকাল থেকে ঢাকার উপকণ্ঠসহ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেখানে আসতে থাকেন। কার্যালয়ের প্রায় সব কক্ষে টিভি ছেড়ে পর্দায় চোখ রাখেন তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও নির্বাচনের খবর নেন নেতাকর্মীরা। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে এই চিত্রই দেখা গেছে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে।

সকাল ১০টার পর থেকে দেখা গেছে, ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠছে নেতাদের মোবাইল ফোন ও কার্যালয়ের ল্যান্ডফোনগুলো। ল্যান্ডফোনগুলো অফিস সহকারীরা রিসিভ করে নেতাদের ধরিয়ে দিচ্ছেন অথবা নিজেরাই কথা সারছেন। বিভিন্ন নেতার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে প্রায় লাগাতার কল আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকে। ফোন রিসিভি করে কখনও আলাদা হয়ে অথবা সবার সামনে ফোনেই কথা সেরে নেন তারা। এসব ফোনালাপের বেশিরভাগই ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত।


কার্যালযের ভেতরে নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী

ধানমন্ডি কার্যালয় থেকেও নেতারা ফোন করে তিন সিটির নির্বাচনি সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নিতে চেষ্টা করেন। সকাল থেকে তিন সিটির ভোট নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নানা অভিযোগ উত্থাপন করলে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে সেসব অভিযোগের জবাবও দেওয়া হয় ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে। অভিযোগের জবাব দিতে মেয়র প্রার্থীদের পরামর্শ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ফোন করে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টিও চোখে পড়েছে। কোনও কোনও নেতা তিন সিটিতে দায়িত্বরত পরিচিত সাংবাদিকদের ফোন করেও সেখানকার প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করেন সকাল থেকে প্রায় ভোটগ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত।
এদিকে বাইরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অবস্থান করেন এখানে। নানা জটলায় ভাগ হয়ে তারা আড্ডা মারেন। কখনও কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে সুবিধামতো স্থানে বসে টিভি পর্দায় চোখ রেখেও ভোটগ্রহণের পরিবেশ দেখার ও বোঝার চেষ্টা করেন তারা।
আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট—এ তিন সিটির নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যালয়ে বসে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধানমন্ডি আমাদের দলীয় কার্যালয়। এখানে বসে কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা তিন সিটির নির্বাচনের বিভিন্ন খোঁজ-খবর রাখছি।’
আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই দলীয় কার্যালয়ে নেতারা আসতে শুরু করেছেন। কর্মীরাও এসেছেন এখানে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে বসে কেন্দ্রীয়ভাবে খোঁজ-খবর রাখছি আমরা।’
আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘এখানে কেন্দ্রীয় নেতারা বসে তিন সিটির নির্বাচনের ব্যাপারে খবর রাখছেন।’
সোমবার সকাল ৮টা থেকে একযোগে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ঢাকায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে তিন সিটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

কার্যালয়ের বাইরে নেতাকর্মীরা

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ ২০-২৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা সকাল থেকেই কার্যালয়ে অবস্থান করেন। তারা তিন সিটির দলের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নির্বাচনি পরিবেশ-পরিস্থিতি জেনে নেন।
বিএনপি নেতাদের ভোট বর্জনের ঘোষণা কেন্দ্রকে অবহিত করলে নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কোনও কোনও নেতা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেন নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যাপারে। ধানমন্ডি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে বসে ও পাশে মিটিং রুমে বসে কেন্দ্রীয় নেতারা টেলিফোনে কথা বলেন বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে। এরই মধ্যে এক দফা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাব দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা। নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ধানমন্ডি কার্যালয়ে।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন