গাইডেন্স পেলে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ভালো করবে, প্রত্যাশা সাবেকদের

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী (ফাইল ছবি)

সঠিক গাইডেন্স পেলে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ভালো করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সাবেক নেতারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন না হলে ছাত্রদের থেকে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে না মন্তব্য করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বলেছেন, মূল সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি করা ছাত্রলীগসহ সব ছাত্র সংগঠনের কমন চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রলীগকে তার অতীত ঐতিহ্য ফিরে পেতে হলে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিবর্তে ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে হবে।

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বের সাফল্য কামনা করে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ঐহিত্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতারা এসব কথা বলেন।

গত ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। সম্মেলনের আড়াই মাস পরে কেন্দ্রীয় কমিটির এই শীর্ষ পদ দু’টির নির্বাচিতদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) শাখার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরাবর সম্মেলনের দিনেই সংগঠনটির কমিটি নির্বাচন হলেও এবার আড়াই মাস পরে কমিটি ঘোষণা হয়েছে।

সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নু বলেন, ‘নতুন নেতৃত্বে যারা এসেছে, সবাই মেধাবী। আমাদের প্রত্যাশা, ঠিকমত গাইডেন্স পেলে তারা অবশ্যই ভালো করবে।’

ছাত্রলীগ অতীত ঐতিহ্য কেন ফিরছে না –এ প্রশ্নের জবাবে এই নেতা বলেন, ‘একটা কথা বুঝতে হবে, ছাত্রলীগের অতীতের নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে আসতো। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার আগে জেলা কমিটিতে ছিলাম, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, তারপর কেন্দ্র। এভাবে ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব নিয়েছি। কিন্তু এখন সেই অবস্থাটা আর নেই। নানা কারণে নেতৃত্বের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও মনে করি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী অনেকভাবে যাচাই-বাছাই করে যাদের যোগ্য মনে করেছেন, তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে এনেছেন।’

ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সফলতা চাইলেও সংগঠনটির বিষয়ে আগাম মন্তব্য করতে রাজি নন সাবেক সভাপতি সুলতান মুহম্মদ মনসুর আহমেদ। ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়‘ প্রবাদ বাক্যটির উদাহরণ টেনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর বলেন, ‘তিন মাস পর ছাত্রলীগের কমিটি হলো। অতীতে কখনও কমিটি গঠনে এতটা সময় লাগেনি।  তারপরও নতুন কমিটিকে স্বাগত জানাই। তারা দায়িত্ব নিয়ে পুর্ণাঙ্গ কমিটি করে কিছুদিন কাজ করুক। তখন মন্তব্য করা যাবে, তারা কতদূর যেতে পারবে। তবে ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতায় একটা কথাই বলতে পারি। আর তা হলো–  ডাকসুসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন যতদিন হবে না, ততদিন যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না। ছাত্র রাজনীতিতে তার আগের ইতিহাস-ঐতিহ্য ফিরে আসবে না। সংগঠনগুলোর দলীয় লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন হিসেবেই পরিচালিত হবে।’

ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্য থেকে সরে যাওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগকে দায়ী করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সুলতান মনসুর বলেন, ‘মস্তিষ্কের বিকৃতি হলে অন্যান্য অঙ্গে এর প্রভাব পড়বে। ছাত্রলীগের ইমেজ নষ্ট হওয়ার জন্য ছাত্রলীগ দায়ী নয়। তাদের যারা পরিচালনা করে, নিজেদের স্বার্থে এই সংগঠনকে যারা ব্যবহার করছে, তারাই এর জন্য পুরোপুরি দায়ী।’

তিনি বলেন, ‘শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সফলতা কামনা করি, যাতে নতুনদের গণমুখী চরিত্র বিকশিত হয়। কামনা করি, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে তারা যেন ভূমিকা রাখতে পারে।’

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি গতিশীল সংগঠন। তাদের কর্ম চলমান। চলমান কর্মকে আরও গতিশীল করতে নতুনরা দায়িত্ব নিয়েছে। বাঙালির চেতনাকে ধারণ ও লালন করে এরা অগ্রসর হতে থাকবে। সেই প্রত্যাশার মধ্যেই ওরা আছে এবং থাকবে।’

এবার খুবই ভালো একটা নেতৃত্ব এসেছে মন্তব্য করে মেধাবী এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রথম দিনের পছন্দের সাবজেক্টে তারা পড়াশুনা করছেন। আমি যতদূর জানি, তারা মানবিক গুণাবলীর দিক থেকেও অনেক উন্নত। আজকে তাদের এই নেতৃত্বে আসার সুযোগ হয়েছে। এই সুযোগটা তাদের ভেতরের মানবিক গুণাবলীকে আরও সুন্দর করে বের করে এনে সমাজ, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা ছড়িয়ে দেবে। জাতির পিতা ও তার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার চিন্তা-চেতনাকে তারা ধারণ করবে; সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের ছন্দপতন কখনোই হয়নি। এটি একটি চলমান সংগঠন। সংগঠনটি সর্বোচ্চ গতি নিয়েই এগুচ্ছে। সেই গতির ফসলই বর্তমান নেতৃত্ব। কাজেই কখনও ছন্দপতন ঘটেনি। কখনোই তার চেতনা ও দর্শনের জায়গা থেকে বিচ্যুতি ঘটেনি। বিচ্যুতি ঘটলে বা লক্ষ্যচ্যুত হলে এ ধরনের সুন্দর নেতৃত্ব আসতো না।’

সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘এবার খুবই ভালো নেতৃত্ব এসেছে। প্রধানমন্ত্রী যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও মেধাবীদের নেতৃত্বে এনেছেন। আশা করি, এই নতুন নেতৃত্ব অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় সফল হবে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামীতে যে নির্বাচন আসছে, সেই নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের নৌকার পক্ষে নিয়ে আসতে কাজ করবে।’