কে এম নুরুল হুদা খাঁটি বাকশাল মার্কা মুখপাত্র: রিজভী

কে এম নূরুল হুদা ও রুহুল কবির রিজভী
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা একেবারেই খাঁটি বাকশাল মার্কা মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

‘এবারে নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে বিএনপি’—প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘এই নুরুল হুদা কুমিল্লায় ডিসি থাকার সময় জনতার মঞ্চ তৈরি এবং খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করেছিলেন। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মিশতে মিশতে বাকশালী সংস্কৃতির স্পর্শ পেয়ে শাসকগোষ্ঠীর মনের মানুষে পরিণত হওয়া সিইসি কে এম নুরুল হুদা একেবারেই খাঁটি বাকশাল মার্কা মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন।’

বিএনপি নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিএনপিকে ভয় দেখাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। রিজভী বলেন, ‘বিএনপি যাতে শেখ হাসিনার অধীনে একতরফা বাকশালী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেজন্য এসব কথা বলছেন তিনি। তার এহেন কথা শুনে মনে হয়, পাতানো নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেই তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের প্রধান আধিকারিক হিসেবে ক্ষমতাসীনদের দাসত্ব করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে ভাষ্য রিজভীর। তিনি বলেন, ‘সিইসিকে বলে রাখি, একটি জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলের অতীত অর্জন, কীর্তি, সংগ্রাম ও অঙ্গীকার রক্ষার মধ্য দিয়ে জনগণের ভেতরে যে মজবুত অবস্থান তৈরি হয়, সেই দলের রেজিস্ট্রেশন থাকে জনগণের হাতে। জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে কাগুজে নিবন্ধনের ঝুঁকির কথা বলে লাভ হবে না।’

নির্বাচন কমিশনের ‘ডার্ক ম্যাটার’ হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার- উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিনের ব্যবস্থা করা সিইসি কর্তব্য বলে মনে করেন না। আওয়ামী সরকারের প্রতি আনুগত্যই তার শেষ কথা। আর এজন্যই তিনি ভোটকেন্দ্রে বেশিক্ষণ সাংবাদিকদের থাকতে দিতে চান না। বিএনপির নিবন্ধন নিয়ে কোনও অশুভ প্ল্যান থাকলে অবৈধ সরকারের পাশাপাশি সিইসিকেও পতনের ঝুঁকিতে পড়তে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৪৩টি গায়েবি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে ৮৪ হাজার ১১ জন নেতাকর্মীকে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩০ জনকে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ হাজার ২৯২ জনের অধিক নেতাকর্মীকে। মোট আসামি করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৪১ জনকে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার জন্য আবেদন করেছি। সেখানে ৩০ সেপ্টেম্বর জনসভা করার অনুমতি দিলেও আমাদের কোনও সমস্যা নেই। ৩০ সেপ্টেম্বরের পরে জনসভার তারিখ পেছাবে না বিএনপি।’