সরকারি চাকরিতে কে ঢুকবে তা নির্ধারণ করে আ.লীগ: জোনায়েদ সাকি

গণতান্ত্রিক বাম জোটের সমাবেশগণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিতে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগ করা লাগে। সরকারি চাকরিতে কে ঢুকবে তা নির্ধারণ করে দেয় আওয়ামী লীগ।

রবিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে মহাজোট সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক দুঃশাসন, জুলুম, লুটপাটের প্রতিবাদে এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করেছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশন নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। সরকারি চাকরিতে কে ঢুকবে, তা নির্ধারণ করে আওয়ামী লীগ। তারা বলছে স্বাধীনতাবিরোধীরা নাকি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেছে। তারা এখন তাদের চিহ্নিত করে স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের চাকরিতে ঢোকাবে। মূলত তাদের পক্ষের লোকজনকে চাকরিতে প্রবেশ করার সুযোগ দিচ্ছে।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও দলীয়করণ করা হয়েছে দাবি করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘তারা যেভাবে কথা বলে, মনে হয় তারা আওয়ামী লীগ করে। এমনকি কে কোন দল করবে, দলের নিবন্ধন সবকিছু গোয়েন্দারা নিয়ন্ত্রণ করছে। এভাবে কোনও দেশ চলতে পারে না। এর পরিবর্তন আনতে হবে, আর এর পরিবর্তন আনতে হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাটের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন। বর্তমানে দেশে যে দুঃশাসন চলছে, তা দেশের জনগণ আগে কখনও এই মাত্রায় দেখেনি। স্বৈরতন্ত্র এদেশে নতুন নয়। নতুন যেটা হচ্ছে তা হলো, এই মাত্রায় কেউ দেখেনি। দেশে উন্নয়নের কথা বলে লুটপাট করা হচ্ছে। আর তা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশ থেকে ছয় লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। পাঁচ টাকার উন্নয়ন তো ৫০ টাকার বাজেট।’

বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের ভরসার জায়গা কোথায়? বিচার বিভাগ! সেই বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। দেশের প্রধান বিচারপতি যদি সুষ্ঠু বিচার না পান, তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ কীভাবে সুষ্ঠু বিচার পাবেন। এই সরকার যদি জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে না আনে, তাহলে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ, অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের মতো।’

সমাবেশের পর মিছিল নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর ব্যারিকেডের মধ্যেই বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাম-গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক, বাসদ নেতা বজলুল রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।