বুধবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আজকের সমাবেশে এই বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে এই দেশের মানুষ গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে চায়। আন্দোলনের জন্য ত্যাগ করতে প্রস্তুত। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো, ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আজ নতুন লড়াই শুরু হলো। এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে গণতন্ত্র। তারেক রহমানসহ সব সাজাপ্রাপ্তকে মুক্ত করতে হবে।’
সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারকে পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, তফসিল ঘোষণার পূর্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সংসদ বাতিল করুন। এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করুন। নির্বাচনে ইভিএম দেওয়া চলবে না। ডিজিটাল চুরি করবেন, এই চুরি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। আমাদের লক্ষ্য মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র হিসেবে নির্মাণ করা।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বিএনপির এক ডজনের বেশি নেতা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজকের সমাবেশের মধ্য দিয়ে জনগণের জয় শুরু হয়েছে।’ তফসিলের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সিলেট থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু হলো।’
ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রতিটি দুর্নীতির হিসাব নেবো। শ্বেতপত্র তৈরি করবো। আমেরিকা, মালয়েশিয়ায় সরকারের লোকেরা সম্পদ জমিয়েছে। এর হিসাব নেওয়া হবে।’
মওদুদ আহমদ বলেন, “সময় মতো সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। যদি গণতন্ত্রকে ‘না’ বলেন, তাহলে দেশের মানুষ সময়মতো জবাব দেবে।”
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপির অন্য নেতাদের মধ্যে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, মো. শাজাহানসহ কয়েকজন।