রিট পিটিশনে উল্লেখ করা মোজাম্মেল হোসেনের ঠিকানা ধরে বুধবার (১০ অক্টোবর) বিকালে কাফরুলে গিয়ে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে বাড়িওয়ালা জানিয়েছেন, মোজাম্মেল হোসেন নামে একজন আইনজীবী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাসিক সাড়ে আট হাজার টাকা ভাড়ায় তার বাড়িতে ছিলেন। গত মে মাসে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান।
রিট পিটিশনে মোজাম্মেল হোসেন তার ঠিকানা উল্লেখ করেছেন ১৭/২, হাজী আলী হোসেন রোড, বাইশটেকী, কাফরুল, মিরপুর ১৩, ঢাকা ১২১৬। কাফরুলের ওই বাড়িতে কথা হয় বাড়িটির মালিক ফজলুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। বাড়ির মালিক পরিবার নিয়ে ওই বাড়িটিতেই থাকেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে আমার বাড়ির পঞ্চম তলায় মাসিক সাড়ে ৮ হাজার টাকায় ভাড়া ছিলেন। তিনি পেশায় আইনজীবী ছিলেন। তবে গত মে মাসে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে উত্তর বাড্ডায় চলে যান। তার শ্বশুরের বাসা বাড্ডার সাঁতারকুলে। বাড্ডার একটি স্কুলে তার স্ত্রীর চাকরি হওয়ায় তিনি এখান থেকে চলে যান। তার যমজ দুই মেয়ে রয়েছে। তারা আমার বাড়িতে অনেক দিন ভাড়া ছিলেন।’
প্রসঙ্গত, বুধবার রিটকারী মোজাম্মেল হোসেনের এক রিট মামলার শুনানিতে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে ইসির প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আবেদনটি এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিট পিটিশনে ও নির্বাচন কমিশনে দেওয়া আবেদনে মোজাম্মেল হোসেন নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তিনি যে বাড়িতে ভাড়া ছিলেন, ওই বাড়ির মালিক এবং আশপাশের কেউ তাকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে চিনেন না। তাকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও যেতে দেখেননি তারা। বাড়িওয়ালা ফজলুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তার কথাবার্তায় তাকে আমার অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী মনে হতো। বিএনপি সমর্থক বা কর্মী তাকে মনে হতো না। তার সঙ্গে যারা আসতেন, তাদের কথায়ও তাই মনে হতো।’
জানা গেছে, মোজাম্মেল হোসেনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের পটুয়াখালীতে। তবে কথা বলার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন দিয়েও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদীর কাছে জানতে চাইলে তিনিও কিছু বলতে পারেননি। এই আইনজীবী বলেন, ‘আমি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা দেখে রিটে সেই ঠিকানা লিখেছি। তার স্থায়ী ঠিকানা আমার জানা নেই।’ মোজাম্মেল হোসেন একজন বিএনপি কর্মী হলেও কোনও পদে নেই বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা সংশোধন করে বিএনপি। ওই ধারায় উল্লেখ ছিল ‘রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দণ্ডিত, দেউলিয়া, উন্মাদ বলে প্রমাণিত, সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ গঠনতন্ত্র থেকে এই কথাগুলো উঠিয়ে দিয়ে ‘প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দলের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন। ৩০ বছরের কম বয়স্ক কোনও ব্যক্তি দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না’—এই অংশটুকু যোগ করা হয়। পরে সংশোধিত এই গঠনতন্ত্র ইসিতে পাঠায় বিএনপি। কিন্তু ওই সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে কাফরুলের এক বিএনপি কর্মীর পরিচয়ে মোজাম্মেল হোসেন নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানান। কিন্তু তার আবেদনটি নিষ্পত্তি না করায় তিনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।