চমকে দিলেন শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

অন্যান্য দিনের মতোই রুটিন মাফিক চলছিল সব। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছেন, এসেছেন অন্যান্য নেতাকর্মীরাও। মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক কিছু ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। বুধবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুড়ি-চানাচুর খাওয়ার পালা মাত্র শেষ হয়েছে। সবকিছু গুছিয়ে কার্যালয়ের স্টাফরা যার যার কাজে মনোনিবেশ করেছেন। হঠাৎ সভাপতির গলা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্টাফদের প্রিয় ‘আপা’ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গলা ভেসে আসে। প্রথমে সবাই চমকে গেলেও একটু পরেই তারা বুঝে যান- নিজে হাজির না হলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চমক কাটার পরেই উপস্থিত সবাই কথা বলা শুরু করেন তাদের প্রিয় নেত্রীর সঙ্গে। সে সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও বলেন, কে কোথায় আছে, সবাইকে ডাকো।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ধানমণ্ডিতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হঠাৎ করেই বুধবার সন্ধ্যার কিছু পরে ভিডিও কল দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে সন্ধ্যায় কার্যালয়ে একে একে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য নেতা। কিন্তু নেতারা কার্যালয় ত্যাগ করলে রাত ৮টার দিকে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংযুক্ত হন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান শেখ হাসিনা।

সভাপতিমণ্ডলীর রুমে স্থাপিত টিভি স্ক্রিনে ভিডিও কনফারেন্স টেকনোলজির মাধ্যমে কার্যালয়ে উপস্থিতরা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিচ্ছেন, কার্যালয়ে কারা কারা আছে, ডাকো।

এরপর সাড়া পড়ে যায় সভাপতির কার্যালয়ে। জানা যায়, এ সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য আমিরুল আলম মিলন, মারুফা আকতার পপি। এ সময় কার্যালয়ে নিজের দফতরে বসা ছিলেন প্রচার ও প্রকাশনা ড. হাছান মাহমুদ। তিনিও এ খবর পেয়ে দ্রুত ভিডিও স্কিনের সামনে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। একে একে কার্যালয়ে অবস্থানরত স্টাফরাও ছুটে আসেন স্ক্রিনের সামনে।

নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী (ছবিটি সংগৃহীত)

জানা যায়, এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু দেশ ডিজিটাল করলেই হবে না, নিজের দলকেও ডিজিটাল করতে হবে। আমি তো চাইলেও মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে কার্যালয়ে যেতে পারি না। তাই নিজের কার্যালয় ডিজিটাল করেছি। যাতে যেকোনও প্রান্ত থেকেই সংযুক্ত হয়ে যেকোনও বিষয়ে কথা বলতে পারি। এখন থেকে নিয়মিতই ভিডিও কলে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে।’

এ সময় উপস্থিতত সবাই দলের সভাপতির সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন এবং দলীয় কার্যালয়ের প্রান্ত থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে অপর প্রান্ত থেকে শেখ হাসিনাও ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এছাড়াও কার্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারেও স্টাফদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত জাতীয় সম্মেলনের আগে থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়টি ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর বুধবার (৩১ অক্টোবর) তিনি ডিজিটাল ডিভাইসে ভিডিও কলে বড় পর্দায় যুক্ত হয়ে চমক উপহার দিলেন। এ সময় কার্যালয়ের স্টাফদের মধ্যে মো. আলাউদ্দিন, জামিনুর রহমান, মাসুদুল হাসান, রায়হান কবির, আলী হোসেন নাসির, আবু সাইদ, মিজান, সাজ্জাদ হোসেন জীবন, রনি, খোকন, রাজিব আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।