সংবিধানসম্মত ব্যবস্থায় নির্বাচনে রাজি যুক্তফ্রন্ট: ওবায়দুল কাদের

02আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপে যুক্তফ্রন্ট নেতাদের বক্তব্যে মনে হয়েছে বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তাতে অংশ নিতে জোটটি রাজি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তফ্রন্টের সবগুলো দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তফ্রন্টের দাবিগুলোর একটাও সংবিধান বহির্ভুত নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক কথা বলেছে। তারা নির্বাচনে আসবে বলে মনে হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণভবনে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার বক্তব্য শুনেছেন। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের একজন ছাড়া বাকি ২০ জন কথা বলেছেন। আলোচনায় উভয়পক্ষের এক ও অভিন্ন সুর ছিল। তা হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী নেতৃত্ব ও আদর্শ’।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধার কথা বলেছেন। আমরাও সেটার নিশ্চয়তা দিয়েছি। তফসিল ঘোষণার পর এমপি-মন্ত্রীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন না। তিনি বলেন, সংসদের বিষয়ে তারা বলেছেন হয় ভেঙে দিতে হবে নয় নিষ্ক্রীয় করতে হবে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, সংসদের অধিবেশন শেষ  হয়ে গেছে। সংসদ এখন নিস্ক্রিয়ই আছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো সরকারের কার্যকারিতা থাকবে না। মন্ত্রীরা ফ্লাগ ব্যবহার করতে পারবে না। এমপিরা কোনো উন্নয়ন বরাদ্দের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা উদ্বোধন করবেন না। এসব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর অংশ হিসেবেই করা হচ্ছে।

কাদের বলেন, দুই নম্বরে তারা বলেছেন ‘নির্বাচনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন শতভাগ মহামান্য রাষ্ট্রপতির অধীনস্থ করতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর এমপিগণ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন বা প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন করে মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে।’ অলরেডি (ইতিমধ্যে) এসব বিষয়গুলো ডান (করা হয়েছে)। এগুলো গতবারও ছিল। এবারো থাকবে। সরকারি দলের প্রর্থীদের বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অপসারণ বিধি অনুসারেই অপসারণ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন তিন নম্বর দাবিটা আংশিক মেনে নেওয়া হয়েছে। সেটা হচ্ছে- ‘নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয়ে সম্পূর্ণ ক্ষমতা সীমিত করা।’ এটাতে আমরা একমত হয়েছি। অলরেডি (ইতিমধ্যে) সীমিত হয়ে গেছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মেতায়েন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশে সেনাবাহিনীকে নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে। অথচ এই সেনাবাহিনীর জন্য দেশে বিদেশে আমরা প্রশংসিত। তাই নির্বাচনের বিতর্কের মধ্যে সেনাবাহিনীকে আনা যাবে না।

তাদের আলোচনা থেকে বোঝা গেছে, সরকার পরিবর্তন বা নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো দাবি তাদের নেই। যুক্তফ্রন্টের ‘নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে’দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তফ্রন্টের নেতারা সংলাপে সরকার পরিবর্তন বা নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে ‘জোর কোনো দবি উত্থাপন করেননি’।

কাদের বলেন, ইভিএম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইভিএম নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা রাষ্ট্রপতিকে তিনি জানাবেন।