প্রধানমন্ত্রী যুক্তফ্রন্টের দাবিদাওয়া নিয়ে নীতিগতভাবে একমত: বি. চৌধুরী

01যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বেশিরভাগ দাবিদাওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যে সব দাবিদাওয়া তুলে ধরেছি প্রধানমন্ত্রী এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’ শুক্রবার (২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষে বারিধারার বাসায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনে বি. চৌধুরী এসব কথা বলেন।


বি. চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি ছিল আমাদের। প্রধানমন্ত্রী এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের অধীনে থাকবে না, তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতির অধীনেই থাকবে। এ সব ব্যাপারে তার কোনও দ্বিমত নেই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীরা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই ন্যাস্ত থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর এমপিরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও প্রকল্প উদ্বোধন বা প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী রাজি হয়েছেন।’

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের প্রার্থীদের বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি প্রসঙ্গে বলেন, এসব অপসারণ করা হবে।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার বা জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে আমাদের দাবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একমত হননি। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেনাবাহিনী উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে।’

বি. চৌধুরী আরও বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই। সেই জন্য আমরা এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সঠিক হবে না বলে মনে করি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে অধ্যাদেশ হয়ে গেছে। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলবেন। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ ব্যাপারে আমরা আগেই রাজি হয়েছি। এটা বাস্তব দাবি।’

এর আগে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বারিধারা থেকে গণভবনে উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার প্রতিনিধিরা রওনা দেন। প্রতিনিধি দলে ৬ জন নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ৭টা ২৪ মিনিটে প্রতিনিধি দল গণভবনে পৌঁছেন।
সংলাপ শেষে রাত ১১টায় বি. চৌধুরী বারিধারার বাসায় এসে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বিএলডিপি সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ এর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, বাংলাদেশ জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাহবুব আলী, বাংলাদেশ জন দলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইউনাইটেড মাইনরিটি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার দাস, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য, সাবেক এমপি, মজহারুল হক শাহ্ চৌধুরী এবং এনডিপি মহাসচিব মো. মাযহারুল হোসেইন ঈসা।

এই সংলাপে নৈশভোজে পাঁচ পদের খাবার খেতে চেয়েছেন বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
আরও পড়ুন:  আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট: বি চৌধুরী