মামলার তালিকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জমা দেওয়া তালিকায় ১ হাজার ২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার আছে ১২ শতাধিক নেতাকর্মী। এসব মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৪৬ হাজার।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ৭ নভেম্বর আমরা ১ হাজার ৪৬টি মামলার তালিকা জমা দিয়েছি। সেখানে ৫ হাজার ২৭৪ জন গ্রেফতার হওয়া কর্মীর নাম ছিল। ওইসব মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৯৬ হাজার ৭০০ জন। উভয় তালিকায় ২ হাজার ৪৮টি মামলায় নামোল্লেখ করা আসামির সংখ্যা মোট এক লাখ ৪২ হাজার ৭০০ জন। এছাড়াও উভয় তালিকায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও তিন লাখ ৭০ হাজার ব্যক্তিকে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘শুভেচ্ছা নেবেন। গত কয়েক বছর ধরে বিএনপির জাতীয় নেতারাসহ দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে হাজার হাজার মিথ্যা, উদ্ভট, গায়েবি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে, যা (৬ নভেম্বর মঙ্গলবার) পর্যন্ত অব্যাহত আছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক হারে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে গ্রেফতারের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠাচ্ছে এবং রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগজনক। ন্যূনতম কোনও সত্যতা কিংবা প্রমাণ না থাকলেও নেতাকর্মীদের এ ধরনের বানোয়াট ও হাস্যকর মামলায় প্রতিনিয়ত জড়ানো হচ্ছে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মৃত কিংবা দেশের বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তিদেরও মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা গায়েবি মামলার তালিকা পাঠানোর জন্য বলেন। এরই আলোকে দেশব্যাপী বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা উল্লেখপূর্বক আংশিক তালিকা গত ৭ নভেম্বর প্রেরণ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত উক্ত তালিকার অভিযুক্তদের মামলা প্রত্যাহার ও তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। আবারও দ্বিতীয় তালিকা প্রেরণ করা হলো। মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করে এসব মামলা প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত আরও তালিকা পাঠানো হবে।’