মাঠ ছেড়ে পালাবো ভাবলে ভুল করবে সরকার: কর্নেল অলি

01সরকার বা অন্য কেউ যদি মনে করে আমরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাবো, তাহলে ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা কখনও মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় না। যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে মোকাবিলা করবো।’ বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের মতো ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়ে কর্নেল অলি বলেন, ‘আপনারা মুক্তিযুদ্ধের মতো ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করুন। এটা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মুক্তিযোদ্ধারা কখনও মাঠ ছেড়ে যায় না।’
কর্নেল অলি আরও বলেন, ‘গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর যে ছবি পাওয়া গেছে সে ছেলেটি ছাত্রলীগের কর্মী বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল সহকারে এসেছে। নির্বাচন কমিশন তখন কোনও নির্দেশনা বা কোনও আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনও বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির জনসমাগম দেখে তারা শঙ্কিত। তারা মনে করলেন এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো।’
এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদিন আগে লাখ লাখ নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কী হলো যে গতকাল হামলা চালাতে হলো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারা গেছে। তাতে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
কর্নেল অলি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের ওপর। কারণ, এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। গত পরশু নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনও মিছিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা সারা দেশের লাখো নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। এতে নারী কর্মীসহ বিএনপির প্রায় ৬০/৭০ জন মারাত্মক আহত হন।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দ্বারা মনোনীত সভাপতিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান অলি। তিনি বলেন, ‘অন্যথায় কখনও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যত ধরনের অন্তরায় আছে, সেটা সরাতে হবে, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
২০ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে। কিন্তু মাঠে ময়দানে যখন আমরা যাই তখন দেখি মন্ত্রীরা এখনও পুলিশ পাহারায় চলে। কয়েক দিন আগে এরশাদ রংপুরে গিয়েছিল। সেখানে তাকে পুলিশের এসপি নিরাপত্তা দিয়েছে। তাহলে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় এজন্য নির্বাচন কমিশনকে একসময় জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ২০ দলীয় জোটের শরিক এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসমিয়া প্রধানসহ অনেকে।