কিসের লোভে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন: ড. কামালকে হানিফ

সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা সভায় মাহবুবউল আলম হানিফসহ আলোচকরাড. কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে জোট করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান বলেছিলেন বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের ভাই। আর তাদের সঙ্গে জোট করে মিথ্যাচার করছেন। আপনি (ড. কামাল) কিসের লোভে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন?’ বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা’য় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘আমরা আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে কৌশলী হলে সেটা কেউ বরদাশত করবে না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী, তা কেউ জানে না। যদি জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আসন্ন নির্বাচনে জনগণ তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। যে কারণে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাই শুরু হয়েছে দল ভাঙাগড়ার সময়। ছোট ছোট দল বড় বড় দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করতে চায়, জনগণের সেবা করতে।’

জোট গঠনকে স্বাভাবিক মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘অস্বাভাবিক হয় তখন, যখন একটি জোট গঠনের লক্ষ্য জনগণের কাছে ঘোলাটে থাকে। তাদের পরিকল্পনা বা পথচলার লক্ষ্য অস্পষ্ট থাকলে জনগণ তাদের নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে তেমনই একটা জোট তৈরি হয়েছে। যাদের মূল দল বিএনপি। আর তারা ড. কামালের মাধ্যমে পরিচালিত।’

বিএনপি’র একমাত্র নির্বাচন কমিশনার আব্দুল আজিজের ওপর আস্থা ছিল উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘আজিজ সাহেব ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়ে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিলেন। এ কারণে আজ পর্যন্ত ওই আজিজ সাহেব ছাড়া আর কোনও নির্বাচন কমিশনারের ওপর আপনারা আস্থা রাখতে পারেননি। এটা আপনাদের মানসিক রোগে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। এটা নিশ্চিত।’

রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের লোকজনদের দেশের উন্নতি পছন্দ হয় না। আবার ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ নির্বাচন করে বিজয়ী হতে পারেনি। ড. কামাল বঙ্গবন্ধুর দয়ায় অনির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন শিক্ষিত মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘দেশ কীভাবে উন্নত হবে, সেটা তিনি ভালোভাবে বোঝেন। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৭টি উপাধি বা সম্মাননা ও ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন তিনি। ওদিকে খালেদা জিয়া আন্ডার মেট্রিক। দেশের ভালোও বোঝেন না। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আবার ক্ষমতায় নিয়ে বাংলাদেশ আগামী ৫ বছরের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।’

স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, অধ্যাপক মোস্তফা কামাল খান, ঢাকা মেট্রোপিলটন পুলিশের ওয়ারী জোনের ডিসি মো. ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।