একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন বুধবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকাসহ সারাদেশে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে ছিল সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভিড়। শেষদিনে সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রার্থী ও সমর্থকদের বেশ চাপ ছিল।
আজ ঢাকা-১৮ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী ফজলে নূর তাপস। এর কিছু সময় পরেই ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের সাদেক খান ও বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম মনোনয়ন জমা দেন। এছাড়া ঢাকা-১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান (বিএনপি) ঢাকা-১৪-তে আসলামুল হক (আ.লীগ), ঢাকা-৮ আসনে আরিফুর রহমান (জাতীয় পার্টি), ঢাকা-১৬ আসনে ইলিয়াস মোল্লা (আ.লীগ), ঢাকা-১০ শামসুল আলম (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) ও অন্যান্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সকাল ৯টা থেকে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়। আজকেও বিভিন্ন প্রার্থীদের সঙ্গে সাতজনের বেশি নেতাকর্মী বিভাগীয় কাার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিতে আসেন। তবে কমিশনার কার্যালয়ে নির্দেশিত সংখ্যার বেশি কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘কমিশন এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। একজন প্রার্থী হিসেবে আহ্বান জানাই আজকের পর থেকে যেন আর কোনও নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও বাড়িতে গিয়ে পুলিশি হয়রানি করা না হয়।’
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সাদেক খানের সঙ্গে কি কথা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য প্রয়োজনে একইমঞ্চে দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইবো বলে সাদেক খানকে জানিয়েছি। তারপরেও বিএনপি বা জোটের নেতাকর্মীদের যেন কোনও ধরনের হয়রানি, গ্রেফতার বা তাদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা না করা হয়। প্রতিউত্তরে সাদেক খান কথা দিয়েছেন আমরা বিষয়গুলো দেখবো।’
পরে সাদেক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত আন্দোলন সংগ্রাম রাজপথে ছিলাম তাই নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণ নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। নৌকাকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।’
প্রার্থী ও সমর্থকদের নির্বাচনি আচরণ বিধি ভঙ্গের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম বলেন, ‘প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় অধিক সংখ্যক লোক না নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছিল। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে প্রার্থীদের সচেতন করতে কাজ করেছেন।’
এ সময় প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্নস্থানে প্রার্থীদের ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চা্িলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা অনেক বড় শহর। কিছু অলি-গলিতে পোস্টার-ব্যানার থেকে যেতে পারে। তবে আমাদের নজরে আসা সব প্রচারণা সামগ্রী সরাতে কাজ চলছে। আজও শহরে ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।’