বিএনপি তো বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনেই নিয়েছে: এইচটি ইমাম

এইচটি ইমামবিএনপির করা প্রশাসনের রদবদলের দাবি মানতে হলে একেবারে পুরো সরকারকেই ওলট-পালট করতে হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেছেন, বিএনপি তো মেনেই নিয়েছে এই সরকার ও প্রশাসনের অধীনেই নির্বাচন করবে। এখন তো রদবদলের দাবি অবান্তর।

নির্বাচন ভবনে রবিবার (২ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে এইচটি ইমাম বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যেটি করেছেন, একেবারে নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, সেখানে তিনি একটি সমাবেশ করেছেন। এখন তো সমাবেশ করার কথা না। সমাবেশ যেই করুক না কেন, আমাদের কেউ করলেও সেটি যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অন্যদের বেলাও সেটি প্রযোজ্য। আমরা এখানে এসেছি, আমরা চাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। যে কথা বলছি, সেটা মনে-প্রাণে আমরা বিশ্বাস করি।’

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কী বলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তারা ব্যবস্থা নেবেন। আমরা সব সময় বলেছি—আইন সবার জন্য সমান। আমাদের কেউ এরকম করলেও। আপনারা জানেন, বিএনপির কোনও কোনও নেতা নানান ধরনের কথা বলছেন। তারা বলছেন, ‘নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বরের পর কোথায় থাকে, আমরা দেখবো। কিংবা আওয়ামী লীগ নেতারা কোথায় থাকে, আমরা দেখবো।’ তার মানে কী? এগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে বলেছি। এ বিষয়ে কমিশনকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিতে বলেছি।’’

‘সবার জন্য সমান সুযোগ নেই’- নির্বাচন কমিশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মওদুদ আহমদ বললেই কী বেদবাক্য হয়ে গেলো, তা তো নয়। তারা দিনরাত ঝাড়া মিথ্যা কথা বলেন। অনবরতই মিথ্যা কথা বলেন। মওদুদ আহমদ ১০ বছর আগে ২০ বছর আগে কী বলেছেন, এখন কী বললেন?’

তিনি বলেন, ‘সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য করে বিভিন্নভাবে চারদিক থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত। আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচন কমিশনকে যদি সত্যিই আমরা শক্তিশালী করতে চাই, যদি মনে করি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে, নির্বাচন কমিশন করতে পারবে। এবার নির্বাচনে একটা অভূতপূর্ব জিনিস হচ্ছে—শেখ হাসিনার সময়ে তার সরকারের সময়ে সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এমন অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে প্রত্যেকেরই সমর্থন দরকার। সহযোগিতা প্রয়োজন এবং সহনশীলতা প্রয়োজন।’

তিনি দাবি করেন, ‘আমরা কখনও কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য দেইনি। আমরা নির্বাচন কমিশনকে কতগুলো বিষয় বলেছি। আজকাল অনেক অনলাইন আছে, তাদের কোনও রকম নিবন্ধন নেই এবং স্থানীয়ভাবে অনেক লোকাল টেলিভিশনও গজিয়ে উঠেছে। এগুলো সম্পর্কেও আমাদের সচেতন হওয়া দরকার, যাতে কেউ কোনও রকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, কেউ যাতে অপপ্রচার না করে। আর সবচেয়ে বড় জিনিস জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় যাতে না দিতে পারে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘লন্ডনে সম্প্রতি ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় এসেছে— সেখানে ব্যাংকিং আইনে দণ্ডিত একজন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সেখানে তাকে এক মিলিয়ন পাউন্ড দণ্ডিত করা হয়েছে। তারপরও সেই ব্যক্তি এখানে এসেছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। এ বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি।’